ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ইতিহাসের সর্বনিম্ন লভ্যাংশ ঘোষণা
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো পিএলসি ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তবে এর আগে কখনও কোম্পানিটি এতো কম লভ্যাংশ দেয়নি। মুলত পুঁজিবাজারের ইতিহাসে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ইতিহাসে এটাই সর্বনিম্ন লভ্যাংশ ঘোষণা। ডিএসই এই তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, সর্বশেষ বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১০ টাকা ৮১ পয়সা। গত বছর কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছিল ৩২ টাকা ৪২ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কোম্পানির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১০২ টাকা ৫০ পয়সা। কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১ এপ্রিল।
১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এতো কম লভ্যাংশ কোম্পানিটি আর দেয়নি। এর আগে ২০২৪ সালে ৩০০ শতাংশ, ২০২৩ সালে নগদ ১০০ শতাংশ, ২০২২ সালে নগদ ২০০ শতাংশ, ২০২১ সালে নগদ ২৭৫ শতাংশ এবং ২০২০ সালে ৬০০ শতাংশ নগদ ও ২০০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। ২০২৫ সালের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ এপ্রিল।
এ জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১ এপ্রিল। মুনাফা কমার কারণ হিসেবে কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত বছওে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ৬৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ পতনের পেছনে প্রধানত নিম্ন টার্নওভার এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি দায়ী, যা মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ ও ব্যবসার কিছু খাতে কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে।
কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ঢাকার কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে প্ল্যান্ট, যন্ত্রপাতি ও সিগারেট উৎপাদন সরঞ্জাম সাভার কারখানায় স্থানান্তর করা হয়। বাধ্যতামূলকভাবে সাইট বন্ধ, স্থানান্তর ও পুনর্গঠন ব্যয়ের ফলে পরিচালন মুনাফায় এককালীন ৭১৫ কোটি টাকা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
মুলত ডানহিল, লাকি স্ট্রাইক, কেন্ট, পলমল, কুল, বেনসন এবং রথম্যান্স তামাকজাত পণ্যের উৎপাদনকারী এ প্রতিষ্ঠানটি তামাকজাত পণ্য বিক্রির দিকে থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। বিশ্বজুড়ে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করা কোম্পানিটি বাংলাদেশেও দীর্ঘদিন ধরে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করছে।
আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৫০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বিএটিবিসির পর্ষদ। এর আগে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১৫০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।
সে হিসেবে সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছে বিনিয়োগকারীরা। আলোচ্য হিসাব বছরে বিএটিবিসির ইপিএস হয়েছে ৩২ টাকা ৪২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৩ টাকা ১১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১০৬ টাকা ৮৮ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বিএটিবিসির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩৩ টাকা ১১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩৩ টাকা ১০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৯৯ টাকা ৩৩ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে বিএটিবিসির ইপিএস হয়েছে ৩৩ টাকা ১০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৭ টাকা ৭২ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৭৬ টাকা ২৭ পয়সায়।
১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৫৪ কোটি। এর মধ্যে ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং বিদেশিদের কাছে ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ শেয়ার আছে।



