প্রাইম ইসলামী লাইফের কাঁধে ১৪২৭ কোটি টাকার ঋণের বোঝা
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানি প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক অবস্থা দিন দিন নাজুক হয়ে পড়ছে। কোম্পানিটির কাঁধে এখন ১ হাজার ৪২৭ কোটি টাকার ঋণের বোঝা। একই সঙ্গে আশঙ্কাজনকভাবে কমছে বীমা তহবিলের আকার এবং পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আর্থিক ঘাটতি।
২০২৩ সালের আর্থিক মূল্যায়ন (ভ্যালুয়েশন) প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির আর্থিক প্রায় সব সূচকেই অবনতি হয়েছে। গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত কোম্পানির পর্ষদ সভায় এই প্রতিবেদনটি অনুমোদন করা হয়। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।
দায়ের বৃত্তে কোম্পানি
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২৩ সাল শেষে প্রাইম ইসলামী লাইফের নিট দায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আগের বছর এই দায় ছিল ১ হাজার ৪৩২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। বছরের ব্যবধানে দায় সামান্য কমলেও ঋণের এই বিশাল অঙ্ক কোম্পানিটির অস্তিত্বের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একটি বীমা কোম্পানির আসল শক্তি হলো তার বীমা তহবিল (লাইফ ফাণ্ড)। গ্রাহকদের জমানো টাকায় গড়ে ওঠা এই তহবিল থেকেই বীমা দাবি মেটানো হয়। কিন্তু প্রাইম ইসলামী লাইফের এই তহবিলটিই ক্রমে ছোট হয়ে আসছে। ২০২২ সালে কোম্পানির তহবিলে ছিল ৭৭১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সাল শেষে ১৪ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকায়।
তহবিল কমলেও ঠিকই বেড়েছে আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সাল শেষে কোম্পানিটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৬৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আগের বছর এই ঘাটতি ছিল ৬৬১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঘাটতি বেড়েছে আরও ৮ কোটি টাকার বেশি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বীমা কোম্পানির তহবিল কমে যাওয়া এবং ঘাটতি বেড়ে যাওয়া সাধারণ গ্রাহক ও বিনিয়োগকারী—উভয় পক্ষের জন্যই দুঃসংবাদ। এর ফলে গ্রাহকদের বীমা দাবি মেটানো যেমন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তেমনি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ পাওয়ার পথও সংকীর্ণ হয়ে আসে।



