আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমলেও বীমা খাতের শেয়ারের কিছুটা একচেটিয়া প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। ফলে এদিন পুঁজিবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে বীমা খাতের কোম্পানিগুলো। মুলত ভালো মৌলভিত্তি শেয়ারে ভর করে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতার আভাস দিলেও স্থায়ী হচ্ছে না।

ফলে লভ্যাংশ ও মুনাফার ইতিবাচক প্রভাবে বীমা খাতের শেয়ারে আগ্রহ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। তবে অন্য খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএই) মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। তবে দুই বাজারেই বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম কমে যায়। ফলে লেনদেনের শুরুর দিকেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে লেনদেনের সময় ২০ মিনিট পার হওয়ার আগেই দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকে বিমা খাতের কোম্পানিগুলো। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতেও। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়।

কিন্তু লেনদেনের শেষ দুই ঘণ্টায় বাজারে এক প্রকার ঢালাও দরপতন হয়। অবশ্য এর মধ্যেও বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। কিন্তু অন্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ঢালাও দরপতন হওয়ায় দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্য সূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১২৫টি কোম্পানি শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২২৩টির। আর ৫৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে বিমা খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৪৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০টির দাম কমেছে এবং একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

একাধিক বিনিয়োগকারীরা বলছেন, বীমা খাতের শেয়ারে লভ্যাংশ ও মুনাফার ইতিবাচক প্রভাবে আগ্রহ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। এছাড়া বীমা খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থা এবং বাজারের শক্তিশালী ইতিবাচক প্রবণতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আজ ডিএসইতে লেনদেনের শেষ ভাগে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৪৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৪৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬২ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক .০৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে।