জীবন বীমা কেন করবেন, বীমা নিয়ে প্রচলিত যে ৭ ভুল ধারণা
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: জীবন বীমার ক্ষেত্রে আমাদের অনেকের একধরনের অনীহা কাজ করে। আমরা বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেই না বা দিতে চাই না। অনেকেই মনে করেন, জীবন তো চলেই যাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু আর প্রিমিয়াম দিয়ে কী লাভ? কেউ কেউ জীবন বীমার প্রিমিয়ামকে অহেতুক অপব্যয় মনে করে থাকেন, যা আদৌ সঠিক নয়। আমারই এক পরিচিত বন্ধু কয়েকদিন আগে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। খরচের পরিমাণ কেমন হবে, সেটা আমরা মোটামুটিভাবে সবাই জানি। অনেক মানুষ প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। অথচ চিকিৎসার সময় সামান্য টাকার জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে হয়।
আমরা যদি একটু সচেতন হই, সুস্থ থাকা অবস্থায় যদি আমরা জীবন বীমা সম্পর্কে ধারণা রাখি এবং যথোপযুক্ত জীবন বীমা গ্রহণ করি, তাহলে বিপদে পড়লে অবশ্যই ভালো আর্থিক সুবিধা পেতে পারি। জীবন বীমা করার সময় অবশ্যই বিভিন্ন শর্তাবলী ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। মৃত্যু নিয়ে ভাবতে আমরা কেউই স্বস্তি পাই না।
প্রিয়জনকে হারানোর কথা ভাবা তো আরও কঠিন।
এই অস্বস্তি থেকেই অনেকেই জীবন বীমা নিয়ে কথা বলতে চান না, এমনকি বিষয়টি এড়িয়ে চলেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো জীবন বীমা শুধু মৃত্যুর পরের বিষয় নয়; এটি জীবনের অনিশ্চয়তার মধ্যেও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি উপায়। আমাদের সমাজে জীবন বীমা নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। চলুন, সেগুলো সহজ ভাষায় বুঝে নেওয়া যাক:
১. জীবন বীমা মানেই শুধু মৃত্যুর পর টাকা পাওয়া যায়
অনেকেই ভাবেন, বীমার টাকা শুধু মৃত্যুর পরই পাওয়া যায়। কিন্তু এখন অনেক বীমা পরিকল্পনায় জীবিত থাকাকালীনও নানা সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন—গুরুতর অসুখে চিকিৎসা সহায়তা, দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ, এমনকি নির্দিষ্ট সময় পরপর কিছু অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থাও থাকে। সন্তানের পড়াশোনার জন্য আলাদা বীমা পলিসিও আছে।
২. আমি তো এখনো তরুণ, বীমার দরকার কী?
এটাই সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাগুলোর একটি। কম বয়সেই বীমা নেওয়া সবচেয়ে লাভজনক। তখন প্রিমিয়াম কম লাগে, অথচ কভারেজ বেশি পাওয়া যায়। পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পরিবার আর্থিকভাবে সুরক্ষিত থাকে।
৩. আমি অবিবাহিত, আমার বীমা লাগবে না
জীবন অনিশ্চিত বিবাহিত বা অবিবাহিত সবার জন্যই। আপনি না থাকলে আপনার রেখে যাওয়া ঋণ বা আর্থিক দায়ভার পরিবারের ওপরই পড়ে। বীমা থাকলে সেই চাপ অনেকটাই কমে যায়।
৪. আমি তো সুস্থ আছি, এখন বীমা কেন?
অনেকেই মনে করেন অসুস্থ হলেই বীমা দরকার। আসলে ঠিক উল্টোটা—সুস্থ থাকতেই বীমা নেওয়া উচিত। কারণ অসুস্থ হলে অনেক সময় বীমা পাওয়া যায় না, বা খরচ অনেক বেড়ে যায়।
৫. অফিসে গ্রুপ বীমা আছে, আর লাগবে না
অফিসের বীমা সাধারণত সীমিত কভার দেয়, যা সব সময় যথেষ্ট হয় না। তাছাড়া চাকরি বদলালে এই সুবিধাও শেষ হয়ে যায়। তাই ব্যক্তিগত বীমা থাকলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে বেশি নিরাপদ।
৬. সব বীমা কোম্পানি ভুয়া
কিছু খারাপ অভিজ্ঞতার কারণে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেশে অনেক ভালো ও নির্ভরযোগ্য বীমা কোম্পানি রয়েছে। একটু খোঁজ নিলেই সঠিক প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়া সম্ভব।
৭. জীবন বীমা খুবই খরচসাপেক্ষ
অনেকে ভাবেন বীমা মানেই অনেক টাকা। আসলে আপনি যতটুকু সামর্থ্য, ততটুকু প্রিমিয়ামে বীমা নিতে পারেন। বিশেষ করে কম বয়সে শুরু করলে কম খরচেই ভালো কভারেজ পাওয়া যায়।
গার্ডিয়ান লাইফ ইন্সুরেন্স সহ বর্তমানে দেশে মোট ৩৬টি প্রতিষ্ঠান জীবন বীমা সেবা প্রদান করছে। তাই আর দেরি না করে নিজের প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী উপযুক্ত বীমা কোম্পানি থেকে একটি উপযোগী পলিসি গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে জীবন বীমার সেবা প্রদানে এগিয়ে রয়েছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্সুরেন্স।



