পুঁজিবাজারে কোম্পানিগুলো তাৎক্ষণিক পরিদর্শনে ক্ষমতা পাচ্ছে ডিএসই
মনির হোসেন, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) তাৎক্ষণিক পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ডিএসইর পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পরিদর্শন চালাতে ডিএসইকে কমিশনের পূর্বানুমতি নিতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আমিন জানান, কমিশন নীতিগতভাবে এমন বিধান বাতিল করতে সম্মত হয়েছে, যাতে ডিএসই প্রয়োজনে যেকোনো সময় তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পরিদর্শন চালাতে পারে। বর্তমানে ডিএসইর লিস্টিং রেগুলেশনের ৫৪ (১) ধারায় বলা আছে, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে
এক্সচেঞ্জ কমিশনের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে যেকোনো সময়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কার্যক্রম পরিদর্শন করতে পারে এবং পরিদর্শন শেষে ১৫ দিনের মধ্যে কমিশনে প্রতিবেদন দিতে হবে। এই বিধানের কারণে ডিএসই নিজস্ব বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কোম্পানিতে পরিদর্শন চালাতে পারে না। তবে নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এই সীমাবদ্ধতা দূর হবে।
নুজহাত আমিন বলেন, প্রাথমিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শনের প্রস্তাবগুলো দ্রুত অনুমোদন দেবে কমিশন। পরবর্তীতে বিধানটি পুরোপুরি বাতিল করে ডিএসইকে স্বাধীনভাবে পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়া হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই নির্দেশনা জারি হতে পারে। ডিএসই ইতোমধ্যে নতুন ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। লিস্টিং রেগুলেশন সংশোধনের পর যেকোনো সময় পরিদর্শন পরিচালনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিটি পরিদর্শনের বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করা হবে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে ডিএসই ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে পূর্বানুমতি ছাড়াই পরিদর্শন করতে পারে। তবে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব যাচাই করতে না পারা বড় একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অসাধু ব্রোকাররা গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের পর ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ব্রোকারদের গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাব যাচাই করার ক্ষমতাও এক্সচেঞ্জের থাকা উচিত। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি প্রয়োজন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুরোধ জানানো হবে।
এছাড়া গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের সুযোগ যাতে অপব্যবহার না হয়, সে জন্য একটি নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



