দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসইর) সদস্যভুক্ত ট্রেকহোল্ডার বা ব্রোকারেজ হাউজ এম্পেরর সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের (ট্রেক নম্বর- ২৯৩) বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ব্রোকারেজ হাউজটির নিট সম্পদের ঘাটতি রয়েছে। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এর ধারাবাহিকতায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে শেয়ারবাজারে মধ্যস্থতাকারী এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

কমিটির সদস্যরা হলেন: বিএসইসির উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি তদন্তের আদেশ জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে বিএসইসি সূত্রে। তদন্তের আদেশ এম্পেরর সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) বিধিমালা, ২০২০-এর রুল ৩(গ) অনুযায়ী, যেকোনো ব্রোকারেজ হাউজের নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) পরিশোধিত মূলধনের ৭৫ শতাংশের বেশি থাকতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে নিট সম্পদ কম থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

সূত্রে জানা গেছে, ডিএসইর পরিদর্শন-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির নিট সম্পদ ঘাটতির বিষয়টি উঠে আসে। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ব্রোকারেজ হাউজটির সক্ষমতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে কমিশন এই বিষয়ে গভীর অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্রোকারেজ হাউজগুলোর নিট সম্পদ পরিশোধিত মূলধনের ৭৫ শতাংশের বেশি রাখার যে বিধান রয়েছে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এই বিধানটি যেসব ব্রোকারেজ হাউজ পরিপালন করে তারা আর্থিক দিক থেকে শক্তিশালী এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

এ শর্ত পরিপালন করতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) বিধিমালা, ২০২০-এর রুল ৭(২) এর অধীনে ট্রেক সার্টিফিকেট বাতিল করার বিধান রয়েছে।

বিগত সরকারের আমলে আইন লঙ্ঘন করা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি তেমন কোনো কঠোর ব্যবস্থা। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুনর্গঠিত বর্তমান কমিশন সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে ঘাটতি থাকা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।