বীমা ও মিউচুয়াল ফান্ডের দাপটের দিনেও দরপতনে পুঁজিবাজারে
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে পতনের দিনেও বীমা ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারের একচেটিয়া দাপট ছিলো। তবে টানা পাঁচ কার্যদিবস দরপতনে বাজার নিয়ে আস্থা সংকটে ভুগছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে আস্থা ফিরিয়ে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করা বিএসইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা।
কারণ রাশেদ মাকসুদ কমিশনের উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই বলেই চলে। এ অবস্থায় যে কোন মূল্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। আস্থা ফিরলে দ্রুত বাজার ঘুরে দাঁড়াবো বলে। কারণ বর্তমান পুঁজিবাজারে অর্থের সমস্যা নয় আস্থা সংকটের কারনে কেউ বাজারমুখী হচ্ছেন না। ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সূচকের সাথে কমেছে টাকার পরিমাণে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বীমা খাতে সম্প্রতি বেশ ভালো করছে। দীর্ঘদিন ধরে এ খাতের কমিশন বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার ফলে আগের চাইতে এখন বীমা খাতে মুনাফা বাড়ছে। সে তুলনায় খাতটির মূল্যস্তর ছিল অনেক নীচে। সম্প্রতি এ খাতটি আবার বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে পাচ্ছে। ২০২৩ সালের পর থেকেই ধুঁকছিল বীমা খাত। অন্যদিকে মেয়াদি বা ক্লোজএন্ড মিউচুয়াল ফান্ডকে বে-মেয়াদি ওপেনএন্ড ফান্ডে রূপান্তরের জন্য নতুন গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
ফলে ক্লোজএন্ড ফান্ড অবসায়নের পরিবর্তে ওপেনএন্ড কাঠামোয় রূপান্তর করা হলে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি সুরক্ষা ও আর্থিক সুবিধা পাবেন। কারণ ওপেনএন্ডে রূপান্তরের পর ইউনিটহোল্ডাররা নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ভিত্তিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন, যা লিকুইডেশনের চেয়ে অধিক লাভজনক ও নিরাপদ। একই সঙ্গে এতে বাজারে অতিরিক্ত বিক্রয়চাপও কমবে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২২০ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৪ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬১ টির, দর কমেছে ১৯৪ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৯ টির। ডিএসইতে ৭২৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১১৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৪৪ কোটি ৯২ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৪৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ২১৫ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮৮ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৮ টির এবং ২৯ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



