শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজার কিছুতেই দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না। বরং দিন যতই যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের রক্তক্ষরণ ততই বাড়ছে। মুলত ক্ষমতার পালাবদল হলেও বিনিয়োগকারীদের ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি। বরং প্রতিনিয়ত বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে। সেই সঙ্গে হতাশা বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। এনিয়ে টানা ছয় কার্যদিবস দরপতনের বৃত্তে পুঁজিবাজার।

ফলে বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন কী হচ্ছে পুঁজিবাজার। এ ভাবে আর কত দিন চলবে। গত ছয় কার্যদিবসে ডিএসইর পতনে ৯৪ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হয়ে গেছে।  তবে ধারাবাহিক এ পতনের মধ্যেও বাজার নিয়ে আস্থাহীনতার কোনো কারণ দেখছেন না বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, স্থিতিশীল বাজারে সাময়িক দরপতন অস্বাভাবিক নয়। বর্তমানে সূচক ও লেনদেন যেভাবে কমছে, তা কাটিয়ে উঠতে বড় ধরনের সময় লাগবে না। একদিনের শক্তিশালী উত্থানই বাজারকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে অনেক বিনিয়োগকারী ব্যক্তিগত খরচ মেটাতে কিছু শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থ তুলে নিচ্ছেন। তবে এই সময়ে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ার কিনে রাখলে ঈদের পর ভালো মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ও সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ফলে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে কমেছে টাকার পরিমাণে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২০৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক .৬৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৮৫ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৪ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৬ টির, দর কমেছে ২৮৯ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৭ টির। ডিএসইতে ৭১৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭২৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৪২ পয়েন্টে। সিএসইতে ২০২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৭৫ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৮ টির এবং ২৯ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২০ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।