মিউচুয়াল ফান্ড ও সিকিউরিটিজের কাস্টডিয়ান হতে চায় এবি ব্যাংক
মেহেদী হাসান, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: আর্থিক খাতে কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবি ব্যাংক পিএলসি। এরই ধরাবাহিকতায় এবার মিউচুয়াল ফান্ড, সিকিউরিটিজ ও বিভিন্ন আর্থিক সম্পদের কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে ব্যাংকটি।
এ লক্ষ্যে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানির মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশনের (এমওএ) উদ্দেশ্য ধারায় নতুন একটি বিষয় সংযোজনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
ব্যাংকটির প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিধি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় থেকে এবি ব্যাংক ভবিষ্যতে মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সিকিউরিটিজ, আর্থিক উপকরণ এবং অন্যান্য সম্পদের কাস্টডিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। তবে এখনই কার্যকর হচ্ছে না এই সিদ্ধান্ত।
এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পাশাপাশি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিও প্রয়োজন হবে। আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য এবি ব্যাংকের ৪৪তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেওয়া হবে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাস্টডিয়ান সেবা হলো পুঁজিবাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কার্যক্রম। সাধারণত মিউচ্যুয়াল ফান্ড, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিরাপদে সংরক্ষণ, তদারকি এবং লেনদেন-সংক্রান্ত সেবা দিয়ে থাকে কাস্টডিয়ান প্রতিষ্ঠান। এতে বিনিয়োগকারীদের সম্পদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
তাদের মতে, এবি ব্যাংক এ খাতে প্রবেশ করলে ব্যাংকটির আয়ের নতুন উৎস তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজার ভিত্তিক আর্থিক সেবায় প্রতিযোগিতাও বাড়বে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাত ও ক্যাপিটাল মার্কেটের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রমও জোরদার হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলো প্রচলিত ঋণনির্ভর ব্যবসার বাইরে গিয়ে বিকল্প আর্থিক সেবায় গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ান সেবার মতো খাতে অংশগ্রহণ বাড়ছে। সে ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এবি ব্যাংক এই উদ্যোগ নিয়েছে।
মুলত এবি ব্যাংক পিএলসি পুঁঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ১৯৮৩ সালে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৮৯৫ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ৮৯ কোটি ৫৬ রাখ ৯৪ হাজার ৭৪৯টি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ১৮.৯ শতাংশ, সরকারের হাতে ০.৫৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৪.৬৪ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.৫৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪৫.৩০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।



