বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে চাঙা পুঁজিবাজার, বেড়েছে লেনদেন
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বাজেট উপস্থাপনের পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। মুলত নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর প্রথম কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে একগুচ্ছ সংস্কারের ঘোষণা দেওয়ায় সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বেড়েছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন। পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের গতি। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
’বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পুঁজিবাজারে হঠাৎ এই চাঙ্গা ভাব আসার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার একগুচ্ছ আধুনিক পরিকল্পনা। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, শেয়ার ক্রয়ের পর তা বিক্রির জন্য বিনিয়োগকারীদের আর দুই দিন অপেক্ষা করতে হবে না।
লেনদেন নিষ্পত্তির সময় ধাপে ধাপে কমিয়ে এনে যেদিন শেয়ার কেনা হবে, সেদিনই যেন তা বিক্রি করা যায়, সেই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এই নিয়ম চালু হলে বাজারের তারল্য বা টাকার প্রবাহ অনেক বাড়বে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিনের টাকা প্রতিদিন খাটাতে পারবেন। এ ছাড়া নতুন কোম্পানির আইপিও বা প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ও অনলাইনে করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ফলে বিনিয়োগকারীদের আবেদন থেকে শুরু করে কোম্পানির অনুমোদন পাওয়ার দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা, ভোগান্তি ও সময় দুটোই অনেক কমে আসবে। সেই সঙ্গে ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনতে আইপিও খরচ কমানো এবং করপোরেট বন্ড ও পৌর বন্ডের মতো নতুন নতুন নিরাপদ বিনিয়োগমাধ্যম চালুর আশ্বাসও মিলেছে এই বাজেটে, যা ব্যাংক খাতের ওপর ঋণের চাপ কমাবে। পাশাপশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে তাদের অর্জিত মুনাফা ও শেয়ার বিক্রির টাকা মাত্র এক কর্মদিবসের মধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সহজ নিয়ম করার কথাও বলেছেন অর্থমন্ত্রী, যা বিদেশি তহবিল আকর্ষণ করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর এক সদস্য বলেন, অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেট পুঁজিবাজার সহায়ক হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগের চেয়ে আস্থা বাড়তে শুরু করেছে। তবে দেখতে হবে পুঁজিবাজারের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবচণতা কতদিন স্থায়ী হয়। তবে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে কিছুটা নিরুৎসাহিত হওয়া, নতুন কমিশনের প্রতি আস্থা এবং বিকল্প বিনিয়োগ মাধ্যমের তুলনায় পুঁজিবাজারকে সম্ভাবনাময় মনে করায় বাজারে অর্থপ্রবাহ বেড়েছে। এটা বাজারের জন্য ইতিবাচক দিক।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১০৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৬২৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১২৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১১৯ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯২ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪৬ টির, দর কমেছে ৯৬ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৩৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৪৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৪৮ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১৪১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭১ টির এবং ৩৬ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৪ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



