দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: অবৈধ কমিশন, বাকী ব্যবসা, অতিরিক্ত ব্যয়সহ নানান অনিয়ম-দুর্নীতি অভিযোগে এবার হার্ডলাইনে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।  মুলত ব্যক্তি এজেন্সি কার্যক্রম স্থগিত থাকার পরও বিভিন্ন খাতে কমিশন প্রদানের অভিযোগ তদন্তে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৯টি বিমা কোম্পানি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে তিনটি পৃথক পরিদর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার আইডিআরএ এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর সম্মতিক্রমে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর ব্যক্তি এজেন্সি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।  তবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পরও কিছু বিমা কোম্পানি ব্যবসা সংগ্রহের উদ্দেশে বেতন-ভাতা, ‘নো ক্লেইম বোনাস’সহ বিভিন্ন খাতে কমিশন প্রদান অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ ওঠে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিমা বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে বাজারে সমতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্রিয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে গত ৪ জুন জারি করা এক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনের জন্য তিনটি পৃথক টিম গঠনের নির্দেশনা দেয় আইডিআরএ।

পরিদর্শন কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে: প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স এবং প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স।

আইডিআরএ জানিয়েছে, পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের গঠিত ভিজিল্যান্স টিমের কাছে জমা দেওয়া হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে আইডিআরএর সদস্য (সাধারণ বিমা) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, পরিদর্শনের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা অমান্য করেছে বলে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।