দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশের ওপর প্রস্তাবিত কর আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল হতে পারে বলেও জানা গেছে। গত বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন মহলের চাপের কারণে সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে কোম্পানির ক্ষেত্রে লভ্যাংশ আয়ের ওপর ২০ শতাংশ কর প্রত্যাহার করে নিয়মিত হারে কর দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। অর্থাৎ কোনো কোম্পানির করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ হলে ওই হারে লভ্যাংশের আয়ের ওপর কর দিতে হবে। আবার কোনো কোম্পানির করহার যদি সাড়ে ১২ শতাংশ হয়, তাহলে ওই হারে লভ্যাংশের ওপর কর দিতে হবে।

কিন্তু সরকারের এ নতুন সিদ্ধান্তের কারণে আগের নিয়মে কর দিতে হবে। অর্থাৎ লভ্যাংশের ওপর ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। পাশাপাশি বিধান অনুযায়ী কোম্পানিগুলোকে তাদের নিট মুনাফার কমপক্ষে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসাবে বিতরণ করতে হয়। নির্ধারিত এই হার পূরণে ব্যর্থ হলে অবণ্টিত মুনাফা বা রিটেইন আর্নিংসের পুরো অংশের ওপর ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়।

তবে প্রস্তাবিত করহার বাস্তবায়িত হলে বাজেটে ব্যাংক, বীমা, লিজিং ও ফাইন্যান্স কোম্পানি এই অতিরিক্ত করের শাস্তির আওতার বাইরে থাকত। অন্যদিকে রিটেইন আর্নিংসে রাখতে চাওয়া পুরো অঙ্কের পরিবর্তে শুধু ঘোষিত লভ্যাংশ ও নির্ধারিত ৩০ শতাংশ ঘাটতির অংশের ওপরই ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর আরোপ হতো।

যেমন কোনো কোম্পানি যদি মুনাফার ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, তাহলে নির্ধারিত ৩০ শতাংশের তুলনায় ঘাটতি থাকবে ২০ শতাংশ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এই ২০ শতাংশের ওপর ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর দিতে হয়। বোনাস লভ্যাংশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালার মৌলিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকছে। বর্তমানে একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি কোনো অর্থবছরে নগদ লভ্যাংশের চেয়ে বেশি বোনাস শেয়ার ইস্যু করতে পারে না। নগদের তুলনায় বেশি বোনাস শেয়ার দিলে অতিরিক্ত অংশের ওপর ১০ শতাংশ কর আরোপ করা হয়।

অন্যদিকে দেশের টোব্যাকো কোম্পানিদের সুবিধা দিতে আগামী অর্থবছরের ২০২৬-২৭ বাজেটে সিগারেট উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে প্রস্তাবিত সম্পূরক শুল্ক কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।
প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে ১০০-৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তা কমানোর চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা।

গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে বলেছিলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর নিকোটিন গ্র্যানুলস এবং নিকোটিন পাউচ আমদানি নিরুৎসাহিত করার জন্য নতুন কোড সৃজনপূর্বক ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করছি।