আস্থা ফিরছে না পুঁজিবাজারে ফের বাড়ছে লোকসানের পাল্লা
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: অর্থনীতির শক্ত ভিত গড়ে তুলতে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে পুঁজিবাজার প্রায়ই অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারান এবং পুঁজিবাজার কাঙ্খিত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়। কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও পড়েছে। সে ধারাবাহিকতায় গত বছর পুঁজিবাজারের সূচক তেমন বাড়েনি। ফলে দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা বাড়ছেই। ফলে পুঁজিবাজারকে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও আস্থাহীনতার অবস্থা থেকে বের করে আনতে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন, বাজার কারসাজি ও ইনসাইডার ট্রেডিং এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে কঠোর ব্যবস্থা নিলেও কাজ হবে কী মাসুদ কমিশনের আমলেও পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না। বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ।
চলতি সপ্তাহে লেনদেন হওয়া ৪ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসই সূচকের পতন হয়েছে।
এদিকে প্রতিনিয়ত পতন হওয়ায় পুঁজিবাজারে আস্থা হারাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া টানা দরপতনে অনেকে আর ভরসা রাখতে পারছেনা। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভুল সিদ্ধান্ত ও বিগত সরকারের লুটপাটই অব্যাহতভাবে পুঁজিবাজারে দরপতন হওয়ার কারণ। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ‘পিবি রেশিও’ আতঙ্কে পুঁজিবাজারের ওপর একটা প্রভাব পড়েছে। তবে এ বিষয় বিএসইসির দ্রুত সমাধান করা উচিত। কারণ গত এক মাসে অস্থিতিশীল বাজারে অধিকাংশ বিনিয়োগকারীদের নতুন করে ২০ শতাংশ পুঁজি হাঁরিয়েছেন।
জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার পরিমাণে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৮৬০ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৮০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৯১ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯২ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮৮ টির, দর কমেছে ২৬৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪১ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ১৪৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১১১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭২৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩৭ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮৭ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১২৭ টির এবং ২৩ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



