শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: টানা আট কার্যদিবস ধরে দরপতনের বৃত্তে আটকে রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। প্রতিদিনই লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমছে। ফলে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে থাকে পুঁজিবাজারের চিত্র। একের পর এক কোম্পানির শেয়ারদর কমতে থাকে। বিক্রির চাপ বাড়ে, কমে যায় লেনদেনের গতি।

দিন শেষে বাজারজুড়ে যেন লাল রঙের আধিপত্য। ফলে পুঁজিবাজারে টানা সূচক ও লেনদেনের পতন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় নতুন করে পুঁজি নিয়ে ফিরেছিলেন, লাগাতার দরপতনে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়ে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। অন্যদিকে, বাজারের মূল চালিকাশক্তি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও কোনো সুনির্দিষ্ট ইতিবাচক সংকেত না পেয়ে সাইডলাইনে পর্যবেক্ষণকারীর ভূমিকা পালন করছেন।

নতুন কোনো ভালো মানের আইপিও আসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় বাজারে তারল্যের যোগান বাড়ছে না, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে আরও বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। এদিকে পুঁজিবাজারকে সুসংগঠিত করতে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি নানামুখী সংস্কারের কথা বললেও বাস্তব চিত্রে তার প্রতিফলন এখনো স্পষ্ট নয়। কাঙ্খিত ও টেকসই বাজার স্থিতিশীলতার কোনো লক্ষণ না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

কেবল নীতিগত সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে বাজারের রক্তক্ষরণ থামানো সম্ভব নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়করণ, ভালো আইপিওর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ফেরাতে সমন্বিত ও দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপের জরুরি প্রয়োজন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৭৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৬৪৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১২৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৩০ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪ টির, দর কমেছে ৩৫৫ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮ টির। ডিএসইতে ৬০১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১০৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭১১ কোটি ১৪ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২৫৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৯১ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ২১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৫৯ টির এবং ১১ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।