দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল ব্যাংক একীভূত সুফল মিলবে না: মাহবুবুর রহমান
মেহেদী হাসান, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমেছে, মূলধন পর্যাপ্ততা দুর্বল এবং তারল্য পরিস্থিতিও সব ব্যাংকের জন্য সমান নয়। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ ৩২ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তা আরও বাড়তে পারে।
আজ শনিবার ব্যাংক খাতের আর্থিক অবস্থা নিয়ে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে অনেক ব্যাংকেরই ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা নেই। পাঁচটি একীভূতকরণের পর ৫৭টি ব্যাংক কার্যক্রম চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কতগুলো ব্যাংক এখন পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম চালাতে পারছে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়। মূলধন পর্যাপ্ততার অবস্থাও দুর্বল এবং অনেক ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা নেই।
ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘প্রিক্যারিয়াস সিচুয়েশন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা মোটেই ভালো অবস্থার মধ্যে নেই। দেশের খেলাপি ঋণের চিত্র তুলে ধরে মাহবুবুর রহমান বলেন, একসময় খেলাপি ঋণ বলতে মূলত সরকারি ব্যাংকগুলোকে বোঝানো হতো। ২০০৮ সালে দেশের খেলাপি ঋণ ছিল প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা। এখন তা ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আগে ধারণা করা হয়েছিল, দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদসহ খেলাপি ঋণ প্রায় ২৫ শতাংশ হতে পারে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তা ৩২ শতাংশের বেশি হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এটি আরও বাড়তে পারে। নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে যেসব ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছিল, সেগুলোর একটি অংশ ভবিষ্যতে আবার খেলাপি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ব্যাংকের মূল ব্যবসা ঋণ দেওয়া ও আমানত সংগ্রহ করা হলেও অনেক ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিম কমে সরকারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ বেড়েছে বলে জানান মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এমন ব্যাংকও দেখা গেছে, যার ঋণ ও অগ্রিম কমেছে, কিন্তু সরকারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ বেড়েছে এবং একই সময়ে মুনাফাও বেড়েছে। এতে স্বল্পমেয়াদে মুনাফা বাড়লেও ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের ফলে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনেক বাড়তে পারে বলে মনে করেন মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে যেসব ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেগুলোর প্রকৃত ঝুঁকি সামনে আসতে পারে। ফলে এসব ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত প্রভিশন করতে হতে পারে।
একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো যখন ঋণের বিপরীতে জামানত খুঁজতে শুরু করবে, তখন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও আরও কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সমস্যাকে শুধু কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকের সমস্যা হিসেবে না দেখে ‘সিস্টেমিক ইস্যু’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান মাহবুবুর রহমান।



