পুঁজিবাজারে অনলাইন ভিত্তিক বিনিয়োগ শিক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ
বিশেষ প্রতিনিধি, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত অনলাইন ভিত্তিক বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ কার্যক্রমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজন প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও তরুণ উদ্যোক্তাদেরও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সহজলভ্য ও ধারাবাহিক করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি কমিশনের ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি ডিভিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকার বিনিয়োগকারীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতেই অনলাইন কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিএসইসি ভবনে সরাসরি উপস্থিত না হয়েও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণের আওতাও আরও বিস্তৃত করা যাবে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও আর্থিক জ্ঞান বাড়াতে বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অনলাইনে বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি শেয়ারবাজারের বিভিন্ন অংশীজন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও নিয়মিত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন।
বর্তমানে বিএসইসির বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমে পুঁজিবাজারসংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান, বিনিয়োগকারীর অধিকার ও দায়িত্ব, বিনিয়োগের ঝুঁকি ও মুনাফা, বিনিয়োগ পরিকল্পনা, সিকিউরিটিজ বিশ্লেষণ এবং পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কর্মদিবসে নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে অনলাইনভিত্তিক প্রশিক্ষণ আরও নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিনিয়োগকারী এবং বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সহজেই এ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৈরি ১৮০ দিনের বিশেষ রোডম্যাপেও বিনিয়োগ শিক্ষা ও আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার ও সরকারের নির্দেশনার ভিত্তিতে তৈরি এ রোডম্যাপে তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী, অনলাইন ও সরাসরি উপস্থিতি দুই মাধ্যমেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কার্যক্রমে শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কতজন তরুণ উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে, সেটিকে রোডম্যাপের অন্যতম ফলাফল নির্দেশক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিএসইসি মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো গেলে দক্ষ ও সচেতন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়বে। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের পুঁজিবাজার সম্পর্কে ধারণা বাড়লে ভবিষ্যতে বাজার থেকে তাঁদের মূলধন সংগ্রহের সুযোগও সহজ হতে পারে।
বিএসইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে মোট ২১ হাজার ৭৩২ জনকে বিনিয়োগ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিএসইসির ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি ডিভিশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৬০ জন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৮৯৬ জন সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং ১ হাজার ১৯৪ জন বিভিন্ন বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মী।
এ ছাড়া পুঁজিবাজারের খবর তথ্যভিত্তিকভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে ৫২ জন সাংবাদিককেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও তথ্যভিত্তিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে বিএসইসি। কমিশনের নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক জ্ঞান বাড়ানোর পাশাপাশি ১৮০ দিনের রোডম্যাপে নির্ধারিত বিনিয়োগ শিক্ষা ও তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের লক্ষ্য বাস্তবায়ন আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।



