শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে চার কার্যদিবস উত্থানের পর টানা দুই কার্যদিবস দরপতনে কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ গত এক মাসে টানা দরপতনে বাজার নিয়ে অজানা আতঙ্কে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফেরাতে সূচকের টানা উত্থানের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ডিএসই একগুচ্ছ উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে প্রথমত স্ক্রিপ্ট নিটিং ও টি+১ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে ডিএসই ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যবস্থা দুটি চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিএসইসির সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নতুন কোনো ব্যবস্থা বা পণ্য চালুর ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তৃতীয়ত, নতুন কোনো নিয়ম বা পণ্য চালুর ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক গতি যাতে ব্যাহত না হয় এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও সুরক্ষা নিশ্চিত থাকে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে ডিএসইর বাজার ইস্যুতে ইতিবাচক উদ্যোগে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর আগে টানা দরপতন থেকে বেরিয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরে পুঁজিবাজার। গত রোববার পর্যন্ত টানা চার কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী ছিল পুঁজিবাজার। তবে রোববার রাতে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ায় সরকার। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে সূচকের বড় দরপতন হয়।

এ পরিস্থিতিতে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। মাঝে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও শেষদিকে আবার পতন হয়। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে সংশোধনের পর বাজারে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আজ মঙ্গলবারের লেনদেনে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি। সূচকের ওঠানামায় দিনের বিভিন্ন সময়ে অস্থিরতা থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে লেনদেন নিয়ে কিছুটা দ্বিধা তৈরি হয়। অনেকেই শেয়ার কেনাবেচার পাশাপাশি বাজারের গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে টানা দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এখন তুলনামূলক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিশেষ করে নিজেদের পুঁজি সুরক্ষিত রাখাকে গুরুত্ব দিয়ে অনেকে হিসাব করে লেনদেন করছেন। বাজারে যেমন আতঙ্ক রয়েছে, তেমনি পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশাও রয়েছে। কারণ পুঁজিবাজারের কোনো পরিস্থিতিই চিরস্থায়ী নয়। তবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরলে আতঙ্ক কমবে এবং বিনিয়োগকারীরা আরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে লেনদেনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়বে।

জানা গেছে, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। তবে টাকার পরিমানে লেনদেন সামান্য বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫৪০ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১০৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক .২৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১০৬ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৫ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৩ টির, দর কমেছে ২২৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৫ টির। ডিএসইতে ৭৯১ কোটি ৪৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭৮৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮১৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৯০ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮৫ টির এবং ২৪ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৯ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।