শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে এই উত্থান, এই পতন। এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। লেনদেনের গতি বৃদ্ধি আর সূচকের উত্থানে বিনিয়োগকারীর নতুন স্বপ্ন বোনার আগেই তা ভেঙে যাচ্ছে হুট করে। দুর্দিন কাটিয়ে পুঁজিবাজারে সুদিন ফেরার আভাস দিলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না।

ফলে পুঁজিবাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা বাড়ছে। বিনিয়োগকারীরা বার বার একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের দাবী জানিয়ে আসলেও তা বাস্তবে রুপ নিচ্ছে না। কারণ এ পরিস্থিতিতে আশা-নিরাশার দোলাচলে শুরু হচ্ছে আগস্ট মাসের মাঝামাঝিতে। ফলে সার্বিকভাবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পুঁজিবাজারের জন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। শিগগিরই সুদিন ফিরবে। গত কয়েক মাসে সরকার ও বিএসইসির পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারের জন্য বেশকিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত রয়েছে। শিগগিরই এসব সিদ্ধান্তের ইতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়বে। এছাড়া টানা পতনে অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ার অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে এটাই স্বাভাবিক। ইতোমধ্যে বাজারে লেনদেনের গতিও কিছুটা বেড়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান দেখে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল যে, আগের দিনের ধারাবাহিকতায় সূচক ও লেনদেন আরও বাড়বে। তবে দিনের মাঝামাঝি পর্যন্ত সূচকের ওঠানামাও ছিল মোটামুটি স্বাভাবিক। তবে এরপর ঊর্ধ্বমুখী গতি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সূচক নিচের দিকে নামতে শুরু করে এবং লেনদেনের শেষ পর্যন্ত সেই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, একদিনের এমন দর সংশোধন বা সূচকের পতনকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে আগামী দিনগুলোতেও যদি একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে হতাশা তৈরি হতে পারে।

এ অবস্থায় বাজারের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে শুরু থেকেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বাজারে কার্যকর নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ বাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ ও আস্থা নিশ্চিত করা গেলে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ১১৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১১৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ১১২ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৭ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪১ টির, দর কমেছে ১৯০ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৭ টির। ডিএসইতে ৭৫৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৯০ কোটি ২৭ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯০৯ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮৭ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮৬ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭১ টির এবং ৩০ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৬ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।