দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড বিভিন্ন পলিসির সাথে দুর্ঘটনাজনিত আর্থিক সুরক্ষা অ্যাক্সিডেন্ট কেয়ার (Accident Care) বা রাইডার দিয়ে থাকে, যা আপনাকে ও আপনার পরিবারকে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আর্থিক নিরাপত্তা দেয়। তবে দুর্ঘটনা কখন ঘটবে, তা কেউ জানে না। এক মুহূর্তের দুর্ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হতে পারে, বাড়তে পারে চিকিৎসার খরচ। গুরুতর আঘাতে কাজের সক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিও থাকে। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক সহায়তার জন্য স্বল্পমেয়াদি দুর্ঘটনা বীমা চালু করেছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

‘গার্ডিয়ান অ্যাক্সিডেন্ট কেয়ার’ নামের এই বীমাকে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল দুর্ঘটনা বীমা হিসেবে উল্লেখ করেছে। এতে দিনে ১০ টাকা থেকে প্রিমিয়াম শুরু। পলিসির মেয়াদ এক দিন থেকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সীরা এ বীমা নিতে পারবেন। ৩০ দিনের জন্য প্রিমিয়াম ২০০ টাকা থেকেও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এই বীমার আওতায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারিত সুবিধা দেওয়া হবে। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা খরচের কভারেজ রয়েছে। তবে প্রকৃত চিকিৎসা খরচ বা নির্ধারিত সীমার মধ্যে যেটি কম, সেটিই প্রযোজ্য হবে। হাসপাতালের কেবিন ভাড়ার জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং একবার হাসপাতালে ভর্তি হলে কেবিন ভাড়ার জন্য সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। আইসিইউ বা সিসিইউতে থাকার সুবিধা সর্বোচ্চ ১৪ দিন।

অস্ত্রোপচার, চিকিৎসকের পরামর্শ, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কভারেজ রয়েছে। কেবিন ভাড়া এবং আইসিইউ/সিসিইউর খরচ এই ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ধরা হবে না। দুর্ঘটনায় স্থায়ী অক্ষমতা হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুবিধা রয়েছে। তবে আঘাতের ধরন অনুযায়ী সুবিধার পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

উভয় হাত বা পা হারানো, একটি হাত ও একটি পা হারানো, দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো কিংবা মুখমণ্ডলের গুরুতর বিকৃতির ক্ষেত্রে বীমাকৃত অর্থের ১০০ শতাংশ পাওয়া যাবে। মাথার খুলির জটিল ভাঙনে ৮০ শতাংশ, এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারালে ৪০ শতাংশ, মেরুদণ্ডের হাড় ভাঙলে ২০ শতাংশ এবং অন্যান্য হাড় ভাঙলে ১০ শতাংশ সুবিধা রয়েছে।

গার্ডিয়ান অ্যাক্সিডেন্ট কেয়ারের পলিসি কেনার প্রক্রিয়া ডিজিটাল। জন্মতারিখ, বীমার মেয়াদ ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে প্রিমিয়াম হিসাব করার পর পর্যালোচনা, যাচাই ও অর্থ পরিশোধ করতে হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, পলিসি কেনার পর তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিতকরণ পাওয়া যাবে। এ বীমার জন্য আগাম চিকিৎসা পরীক্ষারও প্রয়োজন নেই। দাবি করার প্রক্রিয়াও ডিজিটাল ও কাগজপত্র বিহীন করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে বীমা নেওয়ার আগে পলিসির পূর্ণ শর্ত, কোন দুর্ঘটনায় সুবিধা পাওয়া যাবে, কোন ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে না এবং দাবি করার সময়সীমা জেনে নেওয়া জরুরি। কারণ কম প্রিমিয়ামের এই বীমায় প্রতিটি সুবিধার নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে।