দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের প্লেসমেন্ট শেয়ারের লকইন প্রত্যাহার নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পরও শেয়ার অবমুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে লিখিত আবেদন ও আইনি নোটিস দিয়েও সাড়া পাননি বলে দাবি তাদের।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, শেয়ারের ওপর আরোপিত লকইন বহাল থাকায় তারা নিজেদের শেয়ার বিক্রি, হস্তান্তর কিংবা বন্ধক রাখতে পারছেন না। এতে তাদের বিনিয়োগের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত শেয়ার অবমুক্ত করার পাশাপাশি এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার লিখিত ব্যাখ্যা চান তারা।

বিনিয়োগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএসইসির সভার সিদ্ধান্তের পর এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের প্লেসমেন্ট শেয়ারের ওপর অতিরিক্ত তিন বছর অথবা ৩২ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত লকইন আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। দুটি শর্তের মধ্যে যেটি আগে পূরণ হবে, সেটি কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

তবে বিনিয়োগকারীদের দাবি, বিএসইসি (পাবলিক অফার অব ইকুইটি সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২৫-এর ১৭(ঙ) বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শেয়ারের লকইন মেয়াদ দুই বছর। তাদের হিসাবে, এই মেয়াদ গত ৬ মার্চ শেষ হওয়ার কথা ছিল। বিধিতে নির্ধারিত সময়ের বাইরে লকইন বাড়ানোর আইনগত ভিত্তি নিয়েই তাদের আপত্তি।

এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নম্বর ৩২১৬/২০২৬) করা হয়। বিনিয়োগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল জারির পাশাপাশি বিএসইসির সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। পরে বিএসইসি আপিল বিভাগে লিভ টু আপিলের আবেদন করে। গত ৬ জুলাই চেম্বার জজ আদালত স্থিতাবস্থার আদেশ দেন।

এরপর ২৭ জুলাই প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ ওই স্থিতাবস্থার আদেশ বাতিল করেন এবং হাইকোর্টকে সংশ্লিষ্ট রুল দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। বিনিয়োগকারীরা জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপিসহ বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করা হয়।

পরে ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের আইনজীবী ড. সৈয়দা নাসরিন বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দিয়ে আইনি নোটিস পাঠান। সময়সীমা পার হলেও শেয়ার অবমুক্ত করা হয়নি এবং লিখিত জবাবও মেলেনি বলে তাদের দাবি। এ পরিস্থিতিতে লকইন বাড়ানোর সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি এবং আদালতের আদেশের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থার করণীয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।