দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের কোম্পানি ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং খুলনা পাওয়ার কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ বা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শেয়ার কেনাবেচায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনাইটেড গ্রুপের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির আওতায় এসেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বুধবার একটি তদন্তের আদেশ জারি করেছে এবং তিন সদস্যের একটি কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে। ইনসাইডার ট্রেডিং হলো কোনো পাবলিক কোম্পানির এমন সব গুরুত্বপূর্ণ ও অপ্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচা করা, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্যায্য সুবিধা দেয়।

সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জানার আগেই মুনাফা করতে বা লোকসান এড়াতে ব্যক্তিরা গোপনীয় ও মূল্য-সংবেদনশীল তথ্য যেমন কোম্পানির অপ্রকাশিত আয়, একীভূতকরণ বা পণ্যের ব্যর্থতা—ব্যবহার করতে পারেন।

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজা এবং ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড (ইউইসিএল) এর চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন হাসান রাশেদের বিরুদ্ধে এই শেয়ার লেনদেনে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে যে, এই ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের সময় তাঁরা অন্য ব্যক্তিদের নামে খোলা বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার) অ্যাকাউন্ট ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন। বিএসইসির আদেশের বিষয়ে অবগত সূত্রগুলোর মতে, এই কথিত ইনসাইডার ট্রেডিং ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএসইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, এটি এখনও একটি অভিযোগ মাত্র এবং তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। বিএসইসির তদন্ত কমিটি অ্যাকাউন্ট খোলা ও পরিচালনা, শেয়ার প্লেসমেন্ট এবং লেনদেন সম্পাদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্টকব্রোকার, ব্যাংক, ডিপোজিটরি কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা পর্যালোচনা করবে।

বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, এম এম হাবিবুল্লাহ এবং নুরুজ্জামান জিন্নাহ এই অভিযোগগুলো দায়ের করেছেন। তদন্ত কমিটি অভিযোগকারী বা তাঁদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, আত্মীয়স্বজন, কর্মচারী, সহযোগী এবং ইউইসিএল-এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের নামে পরিচালিত অ্যাকাউন্টগুলোও খতিয়ে দেখবে। বিএসইসি কমিটিটিকে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করার নির্দেশও দিয়েছে, যারা প্রকৃতপক্ষে ওই অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণ করতেন অথবা সেগুলোর মাধ্যমে লাভবান হয়েছেন।

তদন্তের জন্য নির্ধারিত কার্যপরিধিতে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কেনা সিকিউরিটিজের লেনদেন বা স্থানান্তর, সংশ্লিষ্ট লেনদেন থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ ও অন্যান্য অর্থ, এবং এগুলোর চূড়ান্ত প্রাপক ও সুবিধাভোগীদের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এদিকে ইউনাইটেড গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে গ্যাস বিল পরিশোধে প্রায় ৯৮১ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতে জমা দেওয়া অনুসন্ধান অগ্রগতি প্রতিবেদনে কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত গ্যাস মূল্যহার অনুসরণ না করে ভিন্ন সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।