সালতা ক্যাপিটালের পর্ষদ ও কর্মীদের বিরুদ্ধে বিএসইসির মামলা
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: আলোচিত ব্রোকারেজ হাউজ সালতা ক্যাপিটালের পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের শতকোটি টাকার বেশি শেয়ার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক (অর্থ), জেনারেল ম্যানেজারসহ আরও দুই কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীদের শতকোটি টাকার শেয়ার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সালতা ক্যাপিটালের ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কমিশন। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট ঢাকার সিএমএম কোর্ট-১২-তে মামলাটি করা হয়। মামলা নম্বর ১৭১২/২০২৬। তবে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর আকস্মিক পরিদর্শনে সালতা ক্যাপিটালের কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্টে (সিসিএ) ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার ঘাটতি পায় ডিএসই।
বিষয়টি বিএসইসিকে জানানোর পর ২৬ নভেম্বর ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিশন। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২১ মে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. ইকবাল হোসেন ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে বিনিয়োগকারীদের ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের তথ্য।
সূত্র জানিয়েছে, সালতা ক্যাপিটালের প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহকের বিও হিসাবে থাকা ৪ কোটি ৩২ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৩টি শেয়ার গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এসব শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৭২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। বিক্রির পর ওই অর্থ তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউজটির সিসিএ থেকে ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা অন্য হিসাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে আত্মসাতের অভিযোগের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই গ্রাহকদের শেয়ার বিক্রি ও নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সালতা ক্যাপিটালের নবায়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বিএসইসি। পরে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন ও ডিপি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় অভিযুক্তদের ব্যাংক ও বিও হিসাব অবরুদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ পিএলসিকে অভিযুক্তদের বিও হিসাব অবরুদ্ধ করতে এবং ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও আদায়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আত্মসাৎ হওয়া অর্থের পরিমাণ চিহ্নিত করে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন। এ ঘটনায় সালতা ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ মো. শহীদুল্লাহ এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিএসইসির প্যানেল আইনজীবী মো. মাসুদ রানা খান বলেছেন, মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে আসামিদের পরবর্তী শুনানির তারিখ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মামলাটি এখনো শেয়ারবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আসেনি। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এটি ট্রাইব্যুনালে আসতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদনহীন ডুপ্লিকেট ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার করে সিডিবিএলে গ্রাহকদের নিবন্ধিত মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করে নিজেদের নাম্বার যুক্ত করা হয়েছিল। ফলে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা লেনদেনের বার্তা পেতেন না; তাদের ভুয়া হিসাব বিবরণী পাঠানো হতো। এ সুযোগে শেয়ার বিক্রি ও নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। এমন অনিয়ম শনাক্তে ডিএসই ইন্টিগ্রেটেড মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম (ডিএসই-আইএমওএন) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



