শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সদ্য নিয়োগ পাওয়া মাসুদ কমিশনের ওপর আস্থা পাচ্ছে না বিনিয়োগকারীরা। ফলে দিন যতই যাচ্ছে বাজারের অবস্থা ততই ভয়াবহ খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা কী ভাবে পুঁজি টিকিয়ে রাখবেন তা নিয়ে হা হুতাশ বাড়ছে।

তাছাড়া মাসুদ কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ার ৪ মাস অতিবাহিত হলেও এখন আস্থা ফেরাতে পারেনি পুঁজিবাজার। বরং দিন দিন বিনিয়োগকারী কমেছে পুঁজিবাজারে। মুলত গত ৪ জুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন মাসুদ খান। দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক দিন বাজার ভাল চললেও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে বিনিয়োগকারীদের মনে তৈরি করেছে আস্থার সংকট।

এছাড়া পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনে রেকর্ড পতন ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে বাজার সংশ্লিষ্টরা ও বিনিয়োগকারীরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিমত, বাজার নিয়ন্ত্রণে বর্তমান কমিশন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের মতে, আগের কমিশনই ছিল তুলনামূলক ভালো। কারণ আগের কমিশনের সময় পতন হলেও একটি সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু বর্তমান কমিশনের সময় সীমাহীনভাবে পতন হলেও তা থেকে উত্তরণের কোনো পদক্ষেপ নেই। সূচক একদিন বাড়লেও টানা কয়েকদিন কমছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সার্বিক পুঁজিবাজারে।

তেমনি বিএসইসি এখন পর্যন্ত এমন কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি যে সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে। অন্যদিকে কোন বিনিয়োগকারী বেশি পরিমাণ শেয়ার কিনলেই বিএসইসি থেকে ফোন দিয়ে কারণ জানতে চাওয়া হয়। ফলে দিন যতই যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা ততই ভারী হচ্ছে। আর দৈনিক লেনদেনের ধীর গতিতে সন্তুষ্ট হতে পারছে না বিনিয়োগকারীরা। ফলে এমন বাস্তবতার মধ্যেই নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খানে দায়িত্ব গ্রহনের চার মাস অতিবাহিত হলেও স্থিতিশীলতায় ফেরেনি পুঁজিবাজার।

বরং গত চার মাসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক উধাও ৪৯৮ পয়েন্ট। এমন পরিস্থিতিতে আস্থা ও তারল্য সংকটে বিপর্যস্ত পুঁজিবাজার। ফলে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এক্ষেত্রে বিএসইসির কোন ভুমিকা দেখা যাচ্ছে না। যার ফলে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নয়, আগে দরপতন ঠেকানোর দাবি বিনিয়োগকারীদের।

কারণ পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হলে সংস্কার করে কী লাভ। কারণ যেখানে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি থাকবে না। সেখানে সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া পুঁজিবাজারকে আরও স্থিতিশীল করতে নতুন কমিশন গঠন করা হয়। কিন্তু সেই কমিশন বাজারকে স্থিতিশীল তো দূরের কথা, স্বাভাবিক রাখতেও ব্যর্থ হয়েছে। বরং ধারাবাহিক দরপতনে বাজার এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকেই সূচকের টানা দরপতন ঘটে। গত ১১ আগস্ট ডিএসইর প্রধান সূচক ৫ হাজার ৯০৩ পয়েন্টের ওপরে থাকলেও সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস ১২ নভেম্বর এসে দাঁিড়য়েছে ৫ হাজার ৪০৪ পয়েন্ট। এর ফলে গত দুই মাসে ডিএসইতে ৪৯৮ পয়েন্ট সূচকের দরপতন ঘটে।
একাধিক বিনিয়োগকারীরা জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুঁজিবাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরেছিল।

এতে হারানো পুঁজি ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি কিছুটা মুনাফাও হয়েছিল। পুঁজিবাজারকে আরও স্থিতিশীল করতে সরকার আগের কমিশন সরিয়ে বর্তমান কমিশনকে বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়। কিন্তু সরকার ও বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে বর্তমান কমিশন। দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজার স্থিতিশীল হয়নি, বরং ধারাবাহিক দরপতনে পুঁজি হারিয়ে লোকসানের পরিমাণ বেড়েছে। তাই সরকারের উচিত এই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করে নতুন অভিজ্ঞ কমিশন গঠন করা, যাতে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হয়।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারের এমন নেতিবাচক পরিস্থিতিতে কমিশন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সঙ্কট আরও বাড়বে। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কমিশনের উচিত ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করা। একই সঙ্গে সরকারের উচিত বাজার উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে অভিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন কমিশন গঠন করা। তবেই পুঁজিবাজারে আবারও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।