দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে কারসাজির অভিযোগে ২ কোটি টাকা জরিমানার পর এবার আজাদ হোসেন পাটওয়ারী ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হিসাবের সন্দেহজনক লেনদেন অনুসন্ধান করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এসব হিসাবে জমা হওয়া অর্থের উৎস, স্থানান্তরের প্রক্রিয়া এবং পুঁজিবাজারে অর্থের ব্যবহার খতিয়ে দেখবে কমিশন। একই সঙ্গে ইনসাইডার ট্রেডিং ও শেয়ার কারসাজির সংশ্লিষ্টতাও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। এ জন্য তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি পুনর্গঠন করেছে কমিশন। কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ রাকিবুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক মো. শাহনওয়াজ এবং সহকারী পরিচালক মো. মতিউর রহমান।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, বিএফআইইউর একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আজাদ হোসেন পাটওয়ারী ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক এবং স্টক ডিলার ও স্টক ব্রোকার প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হিসাবের তথ্য রয়েছে। দৈবচয়ন ভিত্তিতে এসব হিসাব পর্যালোচনা করে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিএফআইইউর প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২(গ) ধারায় বর্ণিত ইনসাইডার ট্রেডিং ও বাজার কারসাজিসংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিএসইসিকে অনুরোধ জানায় সংস্থাটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব থেকে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। এসব অর্থের উৎস ও গতিপথের পাশাপাশি পুঁজিবাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি। এ ছাড়া অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচা, পরিকল্পিত লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারের দাম প্রভাবিত করা কিংবা বাজারে কৃত্রিম সক্রিয়তা তৈরির কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা-ও অনুসন্ধান করা হবে।

এ অনুসন্ধান পরিচালনায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ২১ ধারা, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ১৭(ক) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর বিধান উল্লেখ করেছে বিএসইসি।

বিএসইসির আদেশে আরও বলা হয়েছে, গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের অনুসন্ধান আদেশের ভিত্তিতে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংশোধিত কার্যপরিধি অনুযায়ী নতুন কমিটিকে কাজ শেষ করতে হবে। এ ছাড়া ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা সংশ্লিষ্ট আরেকটি আদেশ বাতিল করা হয়েছে।