দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: স্টক এক্সচেঞ্জের এসএমই প্লাটফর্ম পুঁজিবাজার তথা অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে তা দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা। প্রায় দুই বছর আগে দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্প প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির জন্য একটি স্বতন্ত্র প্লাটফর্ম চালু করা হয়। কিন্তু এর মধ্যে নানা কারণে লেনদেন চালু হয়নি। তবে নিয়ালকো অ্যালয়সের পর এসএমই প্লাটফম খাতে আগ্রহ বাড়ছে কোম্পানিগুলোর।

বুক বিল্ডিং ও ফিক্সড প্রাইস দুই পদ্ধতিতেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ইস্যুয়ার কোম্পানি ও কেবল ২০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ আছে এমন ব্যক্তি কিনতে পারবেন এসব শেয়ার। এদিকে, স্বল্পমূলধনী কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তিতে উৎসাহিত করার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। আছিয়া সি ফুড ১০০ শতাংশ রপ্তানীমুখী প্রতিষ্ঠান।

আছিয়া সী ফুডস লিমিটেড বাংলাদেশের একটি আধুনিক এবং ১০০% রপ্তানিমুখী নেতৃস্থানীয় সীফুড উৎপাদনকারী এবং প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানি। এটি দক্ষিণ উপকূলীয় শহর খুলনায় অবস্থিত। গ্রীষ্মমন্ডলীয় আবহাওয়া এবং ভূগোলের কারণে এই অঞ্চলটি ঐতিহ্যগতভাবে সেরা মানের চিংড়ি এবং চিংড়ি সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত। কারখানাটি সমস্ত স্থানীয় চিংড়ি উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলির সাথে রাস্তা এবং নদী উভয় মাধ্যমেই ভালভাবে সংযুক্ত, যা মানসম্পন্ন সীফুড পণ্য সংগ্রহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল বিষয়।

আছিয়া সি ফুডস লিমিটেড ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে সীফুড ব্যবসার মডেল হিসেবে আছিয়া সি ফুডস লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা। আছিয়া সী ফুডস লিমিটেড হল একটি ক্রমবর্ধমান খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কোম্পানি, যেটি বাংলাদেশের খুলনায় ১৯৯৩ সাল থেকে যাত্রা শুরু করেছে। কোম্পানিটি প্রধানত সামুদ্রিক খাবার এবং মাছ প্রক্রিয়াজাত করে এবং ফার্মের আয়ের চূড়ান্ত উৎস তার পণ্য রপ্তানি থেকে আসে।

কারখানাটি খুলনা শহরে চালু রয়েছে কারণ আশেপাশের এলাকাগুলি চিংড়ি উৎপাদনের জন্য উল্লেখযোগ্য স্থান। রপ্তানিকৃত সামুদ্রিক খাবারের বেশিরভাগই এই এলাকা ও এর আশেপাশে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। আছিয়া সি ফুডস লিমিটেড একটি রপ্তানিমুখী কোম্পানি। মানুষের ব্যবহারের জন্য বিপদমুক্ত সামুদ্রিক খাদ্য পণ্য উৎপাদন করা এবং বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা কোম্পানির প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রকৃতপক্ষে, কোম্পানিটি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে তার উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আছিয়া সী ফুডস লিমিটেড উন্নতমানের সীফুড পণ্য “চিংড়ি ও মাছ” প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানি করে আসছে।

কোম্পানিটি কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও) অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ৫ এপ্রিল কমিশনের ৮১৯তম কমিশন সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়। কোম্পানিটি কিউআইও এর মাধ্যমে প্রতিটি ১০ টাকা মূলে ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ১৫ কোটি টাকা উত্তোলন করবে।

উত্তোলিত অর্থ দিয়ে যন্ত্রপাতি স্থাপন, ঋণ পরিশোধ এবং ইস্যু ব্যবস্থাপনার খরচ খাতে ব্যয় করবে। কোম্পানিটির ২০২০-২১ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১.৮৮ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭.০৭ টাকায়। এসএমই প্লাটফর্মে লেনদেনের তারিখ থেকে পরবর্তী ৩ বছর ইস্যুয়ার কোম্পানি কোনো বোনাস শেয়ার ইস্যু করতে পারবে না। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

এদিকে আছিয়া সি ফুড ১০০ শতাংশ রপ্তানিমুখী কোম্পানি। গত অর্থবছরে (২০২০-২০২১) রপ্তানির মাধ্যমে ১৩৭ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে আছিয়া সি ফুড। সম্প্রতি কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমতি পেয়েছে কোম্পানিটি। এক সাক্ষাতকারে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তারিকুল ইসলাম জহির এ তথ্য জানান।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছি মূলত আর্ন্তজাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি অর্জন করতে। কারন আমাদের ব্যবসা যেহেতু রপ্তানিমূখী, তাই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত থাকলে নতুন নতুন দেশে ব্যবসা বৃদ্ধি করা সহজ হবে। আছিয়া সি ফুড একটি আধুনিক এবং শতভাগ রপ্তানিমুখী নেতৃস্থানীয় সি ফুড উৎপাদনকারী এবং প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৭ সাল থেকেই আমরা স্বাস্থ্যকর সী ফুড উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করে যাচ্ছি।

প্রতিষ্ঠানটির আয় সম্পর্কে তারিকুল ইসলাম জহির বলেন, গত অর্থবছরে আমাদের শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৮৮ পয়সা এবং শেয়ার প্রতি নিট সম্পদের মূল্য ছিল ১৭ টাকা ০৭ পয়সা। আছিয়া সি ফুডের প্রধান পণ্য হচ্ছে বিভিন্ন জাত ও আকারের সামুদ্রিক এবং সাদা পানির হিমায়িত চিংড়ি মাছ। এছাড়াও কিছুদিন যাবৎ পণ্য বৈচিত্রকরনের অংশ হিসেবে আমরা মানসম্মত বিভিন্ন সাদা মাছও রপ্তানি করছি। যুক্তরাজ্য, সাইপ্রাস, জাপান, কোরিয়া, তাইওয়ান, মিশর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

আছিয়া সি ফুডের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, শুরু থেকেই আমরা স্বাস্থ্যসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত সি ফুড পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করছি। আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যতেও যেন আমরা আমাদের পণ্যের মান ধরে রেখে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে আছিয়া সি ফুডসকে আন্তর্জাতিক বাজারে সি ফুড ব্যবসার মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি।

এছাড়াও তিনি জানান, এইচএসিসিপি, বিআরসি এবং আইএসও সার্টিফিকেশনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএস ফুড অ্যাসোসিয়েশন অনুমোদিত প্রক্রিয়াজাতকারীদের সাথে লেনদেন করে মানসম্পন্ন সি ফুড ব্যবসায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছে আছিয়া সি ফুড।

এদিকে গত মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) হিমায়িত মৎস্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান আছিয়া সি ফুডস লিমিটেডকে কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটি কিউআইও এর মাধ্যমে অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দামে ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যু করবে। কিউআইও’র মাধ্যমে উত্তোলন করা টাকা নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন, ব্যাংক ঋণের একাংশ পরিশোধ ও ইস্যু ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করবে প্রতিষ্ঠানটি।