শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা ফের আস্থার সংকটে পড়েছেন। মুলত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা মুনাফা ঘরে তোলার প্রবণতায় সাইডলাইনে রয়েছেন। ফলে ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজারে হঠাৎ করেই ছন্দপতন দেখা দিয়েছে। পতনের আঁচ লেগেছে তালিকাভুক্ত প্রায় সব ধরনের কোম্পানির শেয়ারে। যার জের ধরে ডিএসইতে পাঁচ কার্যদিবসে ২৯৩ পয়েন্ট সূচকের দরপতনের পর সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে হলেও লেনদেনে ভাটা পড়েছে।

মুলত গত কয়েক কার্যদিবসে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও ডে ট্রেডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার কারণেই এমন হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তবে বাজার নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই দ্রুত বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, হঠাৎ করে পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন। আগামীতে বাজারে আরও বৈরী পরিবেশ তৈরি হতে পারে এ শঙ্কায় কম দরে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন অনেক বিনিয়োগকারী। এ সুযোগে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সাইডলাইনে অবস্থান করছেন। ফলে প্রতিনিয়তই কমছে লেনদেন ও শেয়ারের দাম।

তবে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ব্যাংক খাতের শেয়ারে ভর করে পতন থামলো পুঁজিবাজারে। তবে পতন থামলেও আতঙ্ক কাটছে না বিনিয়োগকারীদের। মূলত এদিন বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ার দাম বাড়ায় সূচকের কিছুটা উত্থানের দেখা মিলেছে। তবে সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলীর মতে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রফিট টেকিংয়ের কারণে বাজারে সূচক ও লেনদেনে ভাটা পড়েছে। তবে বাজার নিয়ে আতঙ্কেও কিছু নেই। কারণ একটানা সূচকের উত্থানের পর বাজার একটু কারেকশন মুডে রয়েছে। আশা করি শিগরিই ঘুরে দাঁড়াবে।

এছাড়া ব্যাংক খাতের নেতৃত্বে সূচকের ইতিবাচক প্রবাহ আগামী দিনগুলোতে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। বড় পতনের পর সূচকের ঘুরে দাঁড়ানো বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা বলে তিনি মনে করেন।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪৭৪ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক. ৯৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৩৫ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৪০২ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৭ টির, দর কমেছে ১৯৯ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৮৬ টির।

ডিএসইতে ৭০৬ কোটি ৩২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ২৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭৩২ কোটি ৫৬ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৬৭ পয়েন্টে। সিএসইতে ২১৯ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭০ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১৬ টির এবং ৩৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।