মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে পুঁজিবাজারে ২০৯ পয়েন্ট সূচকের দরপতন
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা এবং পাল্টা হিসেবে ইরানের আকাশপথের অভিযানে টালমাটাল হয়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দেশে হামলার জেরে বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে এশিয়া, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারগুলোতে সব জায়গায় পুঁজিবাজারে প্রভাব পড়েছে। এদিকে পতনের ইস্যু শুধু যুদ্ধ নয়, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে পুঁজিবাজারে বড় পতন ঘটাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনের বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। মুলত সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের রেকর্ড পরিমান দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক কমেছে ২০৯ পয়েন্ট। তবে এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবরে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচক কমেছিল ১৩৮ পয়েন্ট।
তবে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ইরান যুদ্ধের ধাক্কা কাটিয়ে পুঁজিবাজার ৭২ পয়েন্ট সূচক বাড়লেও তৃতীয় কার্যদিবসে রেকর্ড পরিমান দরপতন হয়েছে। ফলে চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে ডিএসইতে ৩৪৭ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হয়েছে। এতে প্রায় ৯০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে। মুলত মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হতেই আতঙ্কে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দেন। যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো।
অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী কাজী হোসাইন আলীর মতে, যদি বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে অতিরিক্ত বিক্রি না করে, বাজার দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পারবে। বিক্রেতার চাপের কারণে সূচক দিনের শেষে বড় পতনের মুখে শেষ হয়, যদিও কিছু ক্রেতা সক্রিয় হওয়ায় হ্রাসের গতি কিছুটা কমে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। আশা করি খব দ্রুত কেটে যাবে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি দেশের পুঁজিবাজারেও পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে, যদিও দীর্ঘমেয়াদে বাজারের পতন আগেই চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আল আমিন বলেন, পুঁজিবাজারে যে ধরনের পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে যুদ্ধের ইস্যু মনে হচ্ছে না। বিএসইসির পরিবর্তন যারা ত্বরাম্বিত করতে চায়, মার্কেট সংশ্লিষ্ট কোনো একটি চক্র বাজারে ভীতি তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে এ কাজটা করছে বলে মনে হচ্ছে। তারা মূলত বিএসইসিতে পরিবর্তন চায় এমন একটি ইস্যু তৈরি করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা চেষ্টা করছে। ইরানে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের সঙ্গে বাংলাদেশের তেমন কানেক্টিভিটি নেই। যুদ্ধের সঙ্গে কানেকশন থাকলে সোমবার তো বাজার ঘুরে দাঁড়াত না এটা পরিস্কার।
জানা গেছে, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমলেও বেড়েছে টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২০৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩২৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৮৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৫০ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৭৬ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩১ টির, দর কমেছে ৩৪৯ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১১ টির। ডিএসইতে ৮৮৫ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১০৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা কম। আগের কার্যদিবস লেনদেন হয়েছিল ৭৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪২৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭২ পয়েন্টে। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২১৪ টি কোম্পানি মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৪৪ টির, কমেছে ১৫৩ টির আর দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টির। সিএসইতে ২৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।



