সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারে বাজার মূলধন উধাও সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে যেন পড়ছে ধসের পর ধস। টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মুখে এখন কেবল হতাশার ছাপ। লেনদেন কমছে, সূচক পড়ছে বাজারে নেই কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত। ফলে দিন যতই যাচ্ছে পুঁজিবাজার ততই তলানিতে নামছে। সেই সঙ্গে বেড়েই চলেছে বিনিয়োগকারীদের হাহাকার। কীভাবে বিনিয়োগ করা পুঁজি রক্ষা করবেন সেই উপায়ও খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। এতে পুঁজি হারা বিনিয়োগকারীদের বোবা কান্না কিছুতেই থামছে না।
টানা দরপতনের সঙ্গে লেনদেনের গতিও কমে গেছে। ফলে টানা দরপতনে ক্রেতা সংকটে হাহাকার পুঁজিবাজার। যার ফলে সপ্তাহজুড়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। যে কারণে সপ্তাহটিতে লেনদেন কমেছে ২৬ শতাংশ।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা দরপতন এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই বিনিয়োগকারীরা লোকসান গুনছেন, কিন্তু বাজারে ফিরছে না আস্থা। নতুন করে বড় বিনিয়োগ আসছে না, আবার পুরোনো বিনিয়োগকারীরাও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। ফলে বাজারে ক্রেতার সংকট প্রকট হয়ে উঠছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। এছাড়া একীভূত হওয়ার পাঁচ ব্যাংকের বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের মূল্য ‘শূন্য’ ঘোষণারও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে।
তেমনি এর দায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এড়াতে পারে না। কারণ, ব্যাংকগুলোর খারাপ অবস্থা তো এক দিনে হয়নি। এ ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তেমনি নিয়ন্ত্রক সংস্থার পুঁজিবাজার ইস্যুতে হুটহাট সিদ্ধান্তে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে নির্বাচন হয়ে গেলে পুঁজিবাজার চাঙা হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন।
জানা গেছে, গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। আর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও কমেছে ১০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা বা ২ শতাংশ।
ফলে সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ১ হাজার ৫৪৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৮৮ কোটি টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৫৩৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকার বা ২৬ শতাংশ।
সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩২ পয়েন্ট বা ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮৩১ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৩৪ পয়েন্ট বা ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১০০১ পয়েন্টে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৯ টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৩২ টির বা ৮.২২ শতাংশের, কমেছে ৩৩৫ টির বা ৮৬.১১ শতাংশের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২২ টির বা ৫.৬৫ শতাংশের।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকার। সপ্তাহটিতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৪৭ পয়েন্ট বা ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৬২৪ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ২৫০ টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭১ টির দর বেড়েছে, ১৫৯ টির দর কমেছে এবং ২০ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।



