শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ হাজী আহমেদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের (ট্রেক নম্বর- ৪১) বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে বিশেষ কমিটি গঠন করে দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিএসইসি এ কমিটি গঠন করে।

কমিটিকে আগামী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত তদন্তের আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে।

তবে হাজী আহমেদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে এর আগে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে, যার প্রেক্ষিতে সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ যাচাই করতেই এই বিশেষ তদন্ত করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত তদন্তের আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিএসইসির জারি করা তদন্তের আদেশ হাজী আহমেদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন: বিএসইসির উপপরিচালক শাহরিয়ার পারভেজ, সহকারী পরিচালক কুলসুম আক্তার এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। বিগত সরকারের আমলে আইন লঙ্ঘন করা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিরুদ্ধে তেমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে ঘাটতি থাকা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রোকারেজ হাউজটির সার্বিক কার্যক্রমে অসঙ্গতি আছে কি-না, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে গঠিত তদন্ত কমিটি। কমিটি তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে। তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ও গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিএসইসি নজরদারি জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন ট্রেক হোল্ডারের বিরুদ্ধে নিয়মিত পরিদর্শন, অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রাহকদের সিকিউরিটিজ ও অর্থ যথাযথভাবে সংরক্ষণ না হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। অতীতে কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর কমিশন কঠোর অবস্থান নেয়।

বিএসইসি মনে করে, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবেই এ ধরনের তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।