নতুন সরকারের নীতির অনিশ্চয়তায় টানা দরপতনে পুঁজিবাজার
আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারের চিত্র যেন হঠাৎ পাল্টে গেল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম কার্যদিবস দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থান দেখা গেলেও নির্বাচনের পর টানা চার কার্যদিবসে সূচকের দরপতনে দু:চিন্তায় পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিলো বিএনপি সরকার গঠনের পর পুঁজিবাজার ভালো হবে। তবে ভালো তো দুরের কথা এখন টানা দরপতন ঘটছে। মুলত নতুন নির্বাচিত সরকারের সম্ভাব্য নীতি ও নিয়ন্ত্রক অবস্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানই বাজারে চাপ বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
গত মঙ্গলবার শপথ নিয়ে দায়িত্ব নেওয়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এখনো পুঁজিবাজার নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেনি। ফলে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত অনেক বিনিয়োগকারী বাজার নিয়ে অপেক্ষায় আছেন।
তাদের ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাজারে যে সক্রিয়তা দেখা গিয়েছিল, সেখানে দ্রুত বাড়তি মুনাফা পাওয়া শেয়ার থেকে অনেকে লাভ তুলে নেন। এতে বাজারে সংশোধন শুরু হয়। বিএনপির বড় জয় ঘোষণার পর ১৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী লেনদেন দিনে সূচক ২০০ পয়েন্ট লাফিয়ে ওঠে। অবমূল্যায়িত ব্লু-চিপ শেয়ারে তখন অতিরিক্ত উৎসাহ দেখা যায়। তবে সেই উচ্ছ্বাস বেশিদিন টেকেনি।
এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর শীর্ষ পদে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ইতোমধ্যে শীর্ষ পদে জায়গা পাওয়ার জন্য তৎপর হয়েছেন বলে বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় ইশতেহারে যোগ্য, সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিদের বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনার হিসেবে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগবান্ধব করনীতি প্রণয়নের কথাও বলেছেন। নির্বাচন-পরবর্তী উল্লম্ফনের আগে অনেক শেয়ার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসি এক কর্মকর্তা প্রশ্ন তোলেন, সরকার যদি আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণে ৫০ বিলিয়ন টাকা ব্যয় করতে পারে, তবে তার একটি অংশ বিনিয়োগকারীদের জন্য কেন বরাদ্দ করা যাবে না। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, ঋণগ্রহীতাদের জামানত এবং অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের সম্পদ বিবেচনায় নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন। দিনজুড়ে বাজারে অস্থিরতা ছিল। দুর্বল ক্রয়চাপের মধ্যে লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতাই প্রাধান্য পায়।
জানা গেছে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৫৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪৬৫ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৭ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯২ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৬ টির, দর কমেছে ৩১৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩ টির। ডিএসইতে ৫৫৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৭৭ কোটি ১ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯৩৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৫৫ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮২ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৪৩ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১৯ টির এবং ২০ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৩ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



