কপারটেকের প্রি-আইপিওর আর্থিক বিবরণীর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগে প্রকৌশল খাতের কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রি-আইপিও সময়ের আর্থিক বিবরণীর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে কোম্পানির নিরীক্ষিত হিসাব গভীরভাবে যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে শর্তসাপেক্ষে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে শর্তসাপেক্ষে এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন: বিএসইসির উপ-পরিচালক মো. রফিকুন্নবী, সহকারী পরিচালক মো. শাকিল আহমেদ ও সহকারী পরিচালক বিভাস ঘোষ।
জানা গেছে, বিএসইসির সভায় কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রি-আইপিও নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অধিকতর যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কোম্পানির আইপিওতে আসার আগের তিন বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লিখিত সার্বিক তথ্য অনুসন্ধান করে খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া তদন্ত কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন মনে করে, পুঁজিবাজার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ কারণে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এর ধারা ২১ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে বিএসইসি তিনজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ৯৮৫ তম কমিশন সভায় কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রি-আইপিও নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
গঠিত তদন্ত কমিটি কোম্পানিটির তিন বছর বা তার অধিক সময়ের প্রি-আইপিও নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনা করবে।
এর পাশাপাশি আর্থিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে কোম্পানির আর্থিক বিবরণীতে সম্পদ, দায়, ইকুইটি, মুনাফা ও নগদ প্রবাহ সঠিক ও ন্যায্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে কিনা যাচাই করা হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস), আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস) এবং আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা মান (আএসএ) অনুসরণ করা হয়েছে কিনা সেটিও পরীক্ষা করা হবে।
এ ছাড়া কোম্পানির বিক্রয়, বিক্রয় ব্যয় (কস্ট অব গুডস সোল্ড), হিসাব গ্রহণযোগ্য, মজুদ এবং কাঁচামাল ক্রয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আর্থিক তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হবে। কোম্পানির কারখানা, যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম, ভবন, জমি ও জমি উন্নয়নসহ বিভিন্ন সম্পদের বাস্তব অস্তিত্ব রয়েছে কিনা তদন্তের আওতায় থাকবে। তদন্তে আরও দেখা হবে, কর-পূর্ব ও কর-পরবর্তী নিট মুনাফার সত্যতা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে দাখিলকৃত কর নির্ধারণপত্রের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য রয়েছে কিনা।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের ২.১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ২০২৫ সালের ৩০ জুন কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ০.৭১ টাকা। এর আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ০.৯০ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৪.৩২ টাকা।
কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১৯ সালে। বর্তমানে কোম্পানিটি ‘বি’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। কোম্পানির মোট পরিশোধিত মূলধন ১১৩ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৩৮ লাখ ২৮ হাজার ৩৬৮টি।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানির উদ্যোক্তাদের হাতে ২৭.৫৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৯.৯৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৫২.৪৬ শতাংশ শেয়ার আছে।



