আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবস টানা দরপতনের পর চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতিশীলতা ফেরার ইঙ্গিত দিলেও আতঙ্ক কাটছে না পুঁজিবাজারে। কারণ এর আগেও টানা দরপতনের পর মাঝে মধ্যে সূচকের উকি মারলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। ফলে একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের দাবী জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

কারণ নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরও সেই পুরোনো চেহারা বিরাজ করছে পুঁজিবাজারে। মাঝে মধ্যে সূচক বাড়লেও সূচকের পতনে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে ডিএসইতে সূচকের উত্থানের সাথে লেনদেন বাড়া ইতিবাচক দিক বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

ফলে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি সবকয়টি মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে সাতশ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরেই আস্থার সংকট বিরাজ করছে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাজারে নতুন করে গতি পাবে এমন প্রত্যাশা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ কারণে সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবসে ১৩৭ পয়েন্ট সূচকের দরপতন হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, চলতি সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবসে টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এ কারণে বাজারে ‘প্যানিক সেল’ হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির অভাব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের এ ধরনের আচরণের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি সপ্তাহের তিন কার্যদিবস সূচকের পতনের স্থবিরতা ভেঙে হঠাৎ করেই প্রত্যাশার বাইরে ইতিবাচক আচরণ দেখাল পুঁজিবাজার। তবে টানা দরপতনের পর সূচকের বড় উত্থান হলেও আতঙ্ক কাটেনি বিনিয়োগকারীদের। এদিন সূচকের সাথে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। মুলত ওষুধ-রসায়ন ও বীমা খাত এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারে জোরালো আগ্রহের ফলে বাজারে এ অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যায়। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৯৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৭২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩২৭ টির, দর কমেছে ৩৯ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫ টির। ডিএসইতে ৭১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৮৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২০০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৭৯ পয়েন্টে। সিএসইতে ২০০ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১৩৩ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৪৩ টির এবং ২৪ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪২ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।