আস্থা ও তারল্য সংকটে বিপর্যস্ত পুঁজিবাজার, সূচক বাড়লেও লেনদেনে ভাটা
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের কিছুটা উত্থান হলেও বাজার নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না বিনিয়োগকারীদের। এছাড়া আস্থা ও তারল্য সংকটে বিপর্যস্ত পুঁজিবাজার। ফলে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুল চ্যালেঞ্জ।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতসহ বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো যাচ্ছে না। এর ফলে চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে না। তেমনি পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে রাশেদ মাকসুদ কমিশনের পরিবর্তনের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন একাধিক বিনিয়োগকারীরা।
কারণ দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত পুঁজিবাজার নানামুখী বিতর্কের কারণে মন্দার মধ্য দিয়ে পার করে এলেও নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে তার জানানও দিয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এখনো পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এতে নতুন করে আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
কারণ সাধারণত সারা বিশ্বে কোনো নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির গতিপ্রকৃতির প্রথম আভাসটি আসে পুঁজিবাজার থেকে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম কার্যদিবসেও তেমনই ইঙ্গিত ছিল দেশের পুঁজিবাজারের আগামী দিনের পথ চলার। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার সাথে বাজারের বাস্তবতা ভিন্ন আচরণ করছে।
মুলত আবারও আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নেতৃত্বের ওপর। গত আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ওলটপালট হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুনর্গঠিত কমিশনের ওপর আস্থার ঘাটতি নয়া এক সংকটেরই বার্তা দেয় পুঁজিবাজারে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর আস্থার সংকট মানে বিনিয়োগে স্থবিরতা। যার কারণে নির্বাচন-পরবর্তী পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে। এ সংঘাত দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এতে একশ্রেণির বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে পুঁজিবাজারে সূচক পতনের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। তেমনি বিনিয়োগকারীরা লোকসানে শেয়ার বিক্রি না করলে দ্রুত বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে তারা মনে করেন।
জানা গেছে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হলেও কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ১২২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক .৭৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৪০ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৫৪ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৯ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৯ টির, দর কমেছে ১৭২ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৮ টির। ডিএসইতে ৪৭০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫১১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৮১ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৭৩ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৬৩ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮৬ টির এবং ২৪ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



