শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি পুঁজিবাজার। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে দেশের পুঁজিবাজারে চলছে অস্থিরতা। বিভিন্ন সময়ে সরকারের তরফ থেকে আশার বাণী শোনানো হলেও প্রকৃত অর্থে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন উপেক্ষিতই থেকেছে। তাই তো এই বাজার ঘিরে বিনিয়োগকারী ও অংশীজনদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার দুই মাস পার হলেও স্থিতিশীল হচ্ছে না পুঁজিবাজার। এমনকি অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসেও নেই প্রতিফলন।

তবে বাজার সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন এমন ব্যক্তিও পেয়েছেন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব। তাই তো বাজার সংশ্লিষ্টদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এরপরও বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ। এ অবস্থার মধ্যে পার করছে। এছাড়া সেই সঙ্গে এ প্রশ্নও উঁকি দিচ্ছে নতুন সরকার কি সত্যিই পুঁজিবাজারের ভাগ্য বদলাতে পারবে,

নাকি প্রত্যাশা আর বাস্তবতার ব্যবধানই হয়ে উঠবে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বাজার সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন সরকার তাদের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনের পাশাপাশি বাজারে আইপিও সরবরাহ নিশ্চিত করে পুঁজিবাজারের কাঙ্খিত উন্নয়নে কাজ করবে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। তবে টাকার পরিমানে লেনদেন সামান্য বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিন পুঁজিবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে বীমা খাতের কোম্পানিগুলো।

তবে অন্য খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএই) মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। তবে দুই বাজারেই বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৯ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৪৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬২ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক .০৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৪০৪ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৫ টির, দর কমেছে ২২৩ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৬ টির। ডিএসইতে ৮১৯ কোটি ২০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৩ কোটি ৫ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮০৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৫১ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৯৮ টি কোম্পানির লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৫৮ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১০৮ টির এবং ৩২ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪১ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।