মাকসুদ কমিশনের পরিবর্তনের গুঞ্জনে পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনের উত্থান
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে টানা দরপতনে ক্লান্ত পুঁজিবাজারে হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেখা দিয়েছে। মুলত নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তনের গুঞ্জনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সূচক ও লেনদেনে।
এছাড়া কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়া এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় পুঁজিবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। যার প্রতিফলন পড়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এদিন বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও গত দুই মাসের মধ্যে টাকার অঙ্কে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
একাধিক বিনিয়োগকারীর সাথে আলাপকালে বলেন, পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থান পতন থাকলেও বাজারের দিকে তাকিয়ে আছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ বাজার এখান থেকে তেমন একটা দরপতনের সুযোগ নেই। ফলে আগে যেখানে বাজারের লেনদেন ৫০০ কোটির আশেপাশে ঘুরপাক খেত সেখানে যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও ১ হাজার কোটির বেশি লেনদেন হচ্ছে। এটা বাজারের জন্য ইতিবাচক দিক। বাজার যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের উত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিন দেশের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি না হলে বাজার আরও উচ্চতায় যেতে পারতো। যুদ্ধের প্রভাবে সাময়িক নেতিবাচক চাপ তৈরি হলেও লেনদেন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বরং সতর্কভাবে বিনিয়োগ করলে ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৯৮পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৪ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২১৩ টির, দর কমেছে ১২১ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৭ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ৫৬ কোটি ৩৬৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১২৭ কোটি ৮ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৯২৯ কোটি ২৮ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৯৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩০ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১১০ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯১ টির এবং ২৯ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



