মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি চুক্তির আশায় পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনের উত্থান
আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যের টানা সংঘাত থামার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়া এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় পুঁজিবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। যার প্রতিফলন পড়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ফলে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
একাধিক বিনিয়োগকারীর সাথে আলাপকালে বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছে না। কারণ বাজার আজ ভাল তো কাল খারাপ। এ অবস্থার মধ্যে নতুন করে বিনিয়োগ করতে ভরসা পাচ্ছেন না। তাই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দরকার স্থিতিশীল পুঁজিবাজার। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরো কার্যকরী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যেকোনো মুহূর্তেই পুঁজিবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে, এ ধারণা থেকেই সম্প্রতি বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। যেখানে আগে বাজারের লেনদেন ৫০০ কোটির আশপাশে ঘুরপাক খেত সেখানে যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও প্রায় প্রতিদিনই ৮০০ কোটির ঘরে লেনদেন হচ্ছে। এটা বাজারের জন্য ইতিবাচক দিক।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক দিন ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান দেখা গেলেও লেনদেনের শেষদিকে তা পতনে রূপ নেয়। তবে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে সকালে সূচকের উত্থানের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শুরু হলেও লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬২ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৮৪ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৯ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২১৫ টির, দর কমেছে ১০৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৬ টির। ডিএসইতে ৯২৯ কোটি ২৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১০৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮২৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৩৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ২১৯ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১১৬ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৭৭ টির এবং ২৬ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



