মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বাড়ার শঙ্কায় পুঁজিবাজারে দরপতন থামছে না
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন থামছে না।
এছাড়া বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ও দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তেমনি পুঁজিবাজারে বীমা খাতের কোম্পানিগুলো সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখালেও দ্বিতীয় কার্যদিবসে অধিকাংশ বীমা খাতের শেয়ারের দাম কমেছে।
সেই সঙ্গে অন্যান্য খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএই) মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সেই সঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে লেনদেনের প্রথম দেড় ঘণ্টা বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে। কিন্তু বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে পুঁজিবাজারের চিত্র বদলে যায়। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক কোম্পানি দাম কমার তালিকায় চলে আসে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবেই বাজারে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এ অবস্থাতেও বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা নেই। তবে বাজারে স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা থাকলেও কিছুদিনের সংশোধনের পর পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও এতে বাড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার পরিমানে লেনদেন বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৩২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৫৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৯ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২০ টির, দর কমেছে ২০৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬২ টির। ডিএসইতে ৮২৪ কোটি ৭৬ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮১৯ কোটি ২০ লাখ ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭২৪ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৯২ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮১ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯০ টির এবং ২১ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



