ইপিএস ও লভ্যাংশের মৌসুমে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে ডিএসইতে সূচক বাড়লেও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। মুলত বীমা খাতের শেয়ারে ভর করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার। এছাড়া ইপিএস ও লভ্যাংশের মৌসুমে অধিকাংশ কোম্পানির ইপিএস ও লভ্যাংশ ঘোষণা শুরু করছে।
ভালো ইপিএস ও লভ্যাংশ ঘোষণা কোম্পানিতে আগ্রহ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। ফলে ইপিএস ও লভ্যাংশের মৌসুমে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। তবে ডিএসইতে টাকার পরিমানে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। মূলত বেশিরভাগ বীমা কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার কারণে বাজারটিতে এই ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে।
অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় বেশির ভাগ কোম্পানি রয়েছে। ফলে মূল্য সূচকও বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ায় লেনদেনের এক পর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে যায়।
কিন্তু লেনদেনের শেষদিকে বিভিন্ন খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম কমে যায়। অবশ্য এর মধ্যেও দাম বাড়ার প্রবণতা ধরে রাখে বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি। ফলে বীমা খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৪৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭টির দাম কমেছে এবং দুটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৩১৬ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ২৬ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৭ টির, দর কমেছে ১৭২ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬২ টির। ডিএসইতে ৯৮২ কোটি ৪২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৯৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৮৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৭৬পয়েন্টে। সিএসইতে ২২১ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৭ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৬ টির এবং ২৬ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



