বিএসইসির নতুন গাইডলাইনে আস্থা বাড়ছে মিউচুয়াল ফান্ডে
মেহেদী হাসান, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: বিএসইসির নতুন নীতিমালার প্রভাবে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ড খাতে। তালিকাভুক্ত ক্লোজ-এন্ড ফান্ডগুলোকে ওপেন-এন্ড বা বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। এর ফলে দরবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় অধিকাংশ মিউচুয়াল ফান্ড।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ ক্লোজ এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড তাদের প্রকৃত সম্পদ মূল্যের (এনএভি) চেয়ে অনেক কম দামে লেনদেন হচ্ছিল। নতুন এই নির্দেশনার ফলে এখন এসব ফান্ডে তারল্য বাড়বে এবং বাজার মূল্যের সাথে সম্পদ মূল্যের ব্যবধান কমে আসবে এমন প্রত্যাশাতেই বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন।
কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো ক্লোজ এন্ড ফান্ডের বাজার দর টানা ছয় মাস এনএভি বা অভিহিত মূল্যের চেয়ে ২৫ শতাংশের বেশি নিচে থাকে, তবে ট্রাস্টিকে ইউনিটহোল্ডারদের নিয়ে বিশেষ সাধারণ সভা বা এসজিএম ডাকতে হবে। সেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নেবেন যে ফান্ডটি কি ওপেন-এন্ডে রূপান্তরিত হবে নাকি অবসায়ন করা হবে। অন্তত ৭৫ শতাংশ ইউনিটহোল্ডারের সম্মতি থাকলে তবেই রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বর্তমানে বাজারে থাকা ৩৪টি ক্লোজ-এন্ড ফান্ডের মধ্যে প্রায় ২২টি এই নীতিমালার আওতায় পড়তে পারে বলে জানা গেছে। আগামী ১২ মে এই ছয় মাসের সময়সীমা পূর্ণ হচ্ছে, যার ফলে চলতি সপ্তাহেই অনেক ফান্ডের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে।
বিএসইসির এই সিদ্ধান্তের ফলে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে লেনদেনে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের অভাবনীয় পারফরম্যান্স বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড-১, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড,
পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এবি ব্যাংক ১ম এবং ট্রাস্ট ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ড সবগুলোর দামই ১০ শতাংশ বেড়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে। এছাড়া এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ১, ইবিএল এনআরবি এবং এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ডের দরও ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
বিএসইসির নির্দেশনায় রূপান্তর প্রক্রিয়ার খরচও সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় ফান্ডের মোট আকারের সর্বোচ্চ ১ শতাংশ খরচ করা যাবে, যার মধ্যে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি পাবে ০.৫০ শতাংশ এবং ট্রাস্টি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফি নিতে পারবে। এছাড়া ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রেকর্ড ডেট ঘোষণার পর ফান্ডের লেনদেন স্থগিত রাখার বিধান রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংস্কারের ফলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে দীর্ঘদিনের অদক্ষতা দূর হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সহজে তাদের বিনিয়োগ করা অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাজারে নতুন গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।



