দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি রহিমা ফুড কর্পোরেশন লিমিটেডের আর্থিক হিসাব নিয়ে চরম নাটকীয়তা শুরু হয়েছে। আমানতের সুদে ‘করণিক ভুল’ আর ‘হিসাব পুনর্মূল্যায়ন’ এর দোহাই দিয়ে মুনাফায় থাকা কোম্পানিটি এখন বড় অঙ্কের লোকসান দেখাচ্ছে। গত ৩ মে ডিএসইর মাধ্যমে দেওয়া তথ্যের দশ দিনের মাথায় এমন ভোলবদল নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যাংক আমানত থেকে প্রাপ্ত সুদ এবং পুঞ্জীভূত মুনাফা গণনায় বড় ধরণের ভুল হওয়ায় আগের প্রতিবেদনে মুনাফা দেখানো হয়েছিল। সংশোধিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রহিমা ফুডের শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৬ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১০ পয়সা মুনাফা। নয় মাসের (জুলাই ’২৫-মার্চ ’২৬) হিসাবে চিত্রটি আরও ভয়াবহ। যেখানে গত বছর এই সময়ে ২৬ পয়সা মুনাফা ছিল, সেখানে এবার লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৮ পয়সা।

অর্থাৎ, বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশের স্বপ্ন দেখলেও কোম্পানি এখন লোকসানের বোঝা টানছে। শুধু ইপিএস নয়, কোম্পানির অভ্যন্তরীণ আর্থিক ভিত্তিও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ৯ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে কমে ৯ টাকা ৮ পয়সায় নেমেছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক হলো শেয়ার প্রতি নগদ প্রবাহের (এনওসিএফপিএস) চিত্র। গত বছর যা ছিল ৮৬ পয়সা, এবার তা মাত্র ৭ পয়সায় ঠেকেছে। নগদ অর্থের এই সংকট কোম্পানির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

আর্থিক প্রতিবেদনের এই হ য ব র ল অবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে শেয়ার দরেও। গত ছয় মাস আগে যে শেয়ার ১৭০ টাকার উপরে কেনাবেচা হয়েছে, তা মাঝে এসে ১০০ টাকার নিচে লেনদেন হয়েছে। যদিও কোম্পানির মুনাফাই থাকার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর শেয়ার দর কিছুটা বেড়েছিল। গত এক মাসেই শেয়ারটির দর কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ। আজকে কোম্পানিটি শেয়ার ১০৭ টাকা লেনদেন হতে দেখা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নামী দামী কোম্পানির এমন অপেশাদার আচরণ পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতাকে নষ্ট করছে। হিসাবের এই ‘ভুল’ অনিচ্ছাকৃত নাকি কৃত্রিমভাবে দর নিয়ন্ত্রণের কোনো কৌশল, তা খতিয়ে দেখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি-র হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা।