দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্র বন্ধ ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বর্তমান সরকারকে দ্রুত আন্দোলনরত গ্রাহকদের ন্যায্য দাবিগুলো পূরণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে নাগরিক মঞ্চ আয়োজিত এক আলোচনা সভায়।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরম খাঁ হলে এ আলোচনা সভা হয়। এ সময় ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগও দাবি করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।

নাগরিক মঞ্চের প্রধান সমন্বয়কারী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক পার্টির চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ শামীমের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষা ও রাজনীতিবিদ ড. ফয়জুল হক, আইনজীবী মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন, কর্নেল (অব.) ফরিদুল আকবর প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, এস আলম গ্রুপের আগ্রাসনে এ ব্যাংক ধ্বংস হয়েছে, কিন্তু বিগত ১৫ বছর সেটার প্রতিবাদ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এখনো সে যড়যন্ত্র চলছে। বর্তমান সরকারকে সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবশ্যই ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে খুরশীদ আলমকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। তারা বলেন, বর্তমান সরকারও এ ব্যাংক নিয়ে দ্বিচারিতা মনোভাব দেখাচ্ছে, যা বিগত সময় আওয়ামী লীগের প্রচেষ্টা ছিল।

মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, এ ব্যাংক জামায়াতের এমন অভিযোগ দিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হবে-এগুলো মনোভাব থেকে এ দেশকে মুক্তি দিতে ৩৬ জুলাই এসেছিল বাংলাদেশে। এ ইসলামী ব্যাংক দিয়ে সাধারণ জনগণসহ সব দলের লোক উপকৃত হয়েছে। এটা কারো একক ব্যাংক নয়, এটা সব জনগণের।

এ ব্যাংক নিয়ে আমরা বিভক্তি-বিভাজন চাই না। এ সরকারকে বলছি, আগে বলা হতো এ ব্যাংক মৌলবাদী অর্থনীতি, জঙ্গি কানেকশন। আপনারাও এ সমস্ত কথা বলে জনগণের ব্যাংক ধ্বংস করবেন না। আপনাদের কাছে অনুরোধ, আসুন রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে এসে জনগণ ও আর্থিক খাতের কথা চিন্তা করে এ ব্যাংককে সব ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি দিন।

আহসান উল্লাহ শামীম বলেন, উগ্রবাদী যড়যন্ত্র থেকে এ ব্যাংক আমরা রক্ষা করবো। যখন এ ব্যাংকে অযোগ্য চেয়ারম্যান বসানো হয়েছে, তখন আমরা বুঝতে পেরেছি এ সরকারও লুটপাট করে খেতে চায়। প্রয়োজনে আমরা রাজপথে আন্দোলন করে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেব। তিনি বলেন, আগের ফ্যাসিবাদের মতো সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে না এলে ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে।