সরকারের ১০০ দিনে ৬০৫ খুন ও ১৯৬ অপহরণ: টিআইবির উদ্বেগ
দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশে সাম্প্রতিক সময়ে নৃশংস হত্যা, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, গণপিটুনি, নারী নিপীড়নসহ পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, তুচ্ছ সামাজিক বিরোধ, মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা, মাদকের বিস্তার ও অনলাইনে বিদ্বেষমূলক কনটেন্টের প্রভাব মানুষের মধ্যে সহিংস ও নির্মম প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এসব ঘটনার শিকার হচ্ছে শিশুরাও। বিশেষ করে পল্লবীর রামিসা হত্যাকাণ্ড সারা দেশের বিবেকবান মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
এদিকে একটির পর একটি নৃশংস ঘটনার কারণে অপরাধীদের মধ্যে ভয়ভীতি কমে যাচ্ছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও হামলার শিকার হচ্ছেন।
সব মিলিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা ও জনমনে আস্থার সংকট ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে। আবার এসব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে যারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, তারা আইনের ফাঁক গলিয়ে দ্রুত মুক্তি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে।
এদিকে বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির দাবি, এ সময়ে হত্যা, অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতি এবং নারী-শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে ঘটেছে। সংস্থাটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে দেশে ৬০৫টি খুন এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংস্থাটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত ‘অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র’ শীর্ষক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চ ও এপ্রিল মাসে মোট ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি এবং চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৩ হাজার ৪৯৬টি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচিত সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ থেকে ১০২ জন, গণধর্ষণের শিকার ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশু ৪৯ থেকে ৭১ জন।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের ১০০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা নাজুক ছিল। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, লুটপাট ও অরাজকতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ উদ্বেগজনক হারে ঘটেছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে দেশে ৬০৫টি খুন এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
সংস্থাটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত ‘অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র’ শীর্ষক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চ ও এপ্রিল মাসে মোট ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি এবং চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৩ হাজার ৪৯৬টি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচিত সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ থেকে ১০২ জন, গণধর্ষণের শিকার ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশু ৪৯ থেকে ৭১ জন।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকারের ১০০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা নাজুক ছিল। খুন, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, লুটপাট ও অরাজকতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



