মাসুদ কমিশনের প্রথম কার্যদিবসে চাঙ্গা পুঁজিবাজার, দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কার্যদিবসেই দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের বড় ধরনের লেনদেন শেষ হয়েছে। মুলত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্বের আগমনে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বিএসইসিতে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের পর প্রথম কার্যদিবসে লেনদেনে উল্লম্ফন হওয়র পাশাপাশি মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। ফলে মাসুদ কমিশনের উপর আস্থা রয়েছে বিনিয়োগকারীদের। গত ১০ কার্যদিবসে টানা উত্থানে সূচক বেড়েছে ৩১০ পয়েন্ট। গত দুই বছরের মধ্যে ডিএসইতে সব্বোর্চ লেনদেন হয়েছে। এর আগে বাজারটিতে ২০২৪ সালের ১১ আগস্টের পর সবচেয়ে বড় লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে।
মুলত দায়িত্ব পাওয়ার পর পুঁজিবাজার নিয়ে আশার কথা শোনালেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান। প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি যেখানে সম্ভব সেখানে নিয়মকানুন সহজ করার মাধ্যমে ভারসাম্য বজায় রাখার কথা বলেছেন তিনি। নিজের করণীয় বিষয়ে এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, আমার মূলনীতি হবে যেখানে প্রয়োজন সেখানে নিয়ন্ত্রণ, আর যেখানে সম্ভব সেখানে সরলীকরণ।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নেতৃত্বের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক প্রত্যাশা এবং বাজার সংস্কারের সম্ভাবনাই এ উত্থানের প্রধান কারণ। এর ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেনের শুরু থেকেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়তে থাকে। এর ফলে সূচকে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি এবং লেনদেনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কারসাজি দমন, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। এরই প্রতিফলন দেখা গেছে প্রথম কার্যদিবসের লেনদেনে।
একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে ধারাবাহিক দরপতন ও লেনদেনের স্থবিরতায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। নতুন নেতৃত্বের অধীনে কমিশন বাজার উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে এমন বিশ্বাসে অনেক বিনিয়োগকারী আবারও শেয়ার কেনার দিকে ঝুঁকছেন।
ডিএসইর এক সদস্য বলেন, শুধু সূচকের উত্থান নয়, বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য কমিশনকে দ্রুত নীতিগত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে ভালো ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির আইপিও বাজারে আনার উদ্যোগ নিতে হবে এবং দুর্বল কোম্পানির তালিকাভুক্তি রোধ করতে হবে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৪১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫১৬ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১১৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৮৭ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৩ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৪ টির, দর কমেছে ১৬০ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৯ টির। ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৫২৯ কোটি ৫ লাখ টাকার। যা আগের কার্যদিবস হতে ১৭৭ কোটি ৪৬ টাকা বেশি। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৩৫১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ১৩১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৯৯ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৪৩ টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১৩৩ টির কমেছে ৮০ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির দর। সিএসইতে ৫৭ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



