শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘ দুই বছর মন্দার পর দেশের পুঁজিবাজারে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই নানামুখী চাপে ছিল পুঁজিবাজার। রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা আস্থার সঙ্কটে ভুগছিলেন।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের মধ্যে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। এর পরের দিনই বাজারে লেনদেন বাড়তে থাকে। যার ধারবাহিকতায় বৃহস্পতিবার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং চার জন কমিশনার পদত্যাগ করেন।

একই সময়ে নতুন চেয়ারম্যান এবং কমিশনার নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থমন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরেই বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারা কমিশনের পূনগঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ফলে পদত্যাগ এবং নতুন কমিশন গঠনের ঘোষণায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজারে লেনদেনে ব্যাপক উত্থান দেখা গেছে।

ফলে বিদায়ী সপ্তাহে সূচকের উত্থানে টাকার পরিমাণে লেনদেন বেড়েছে। সপ্তাহটিতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। যার ফলে সপ্তাহটিতে ১৩ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার বাজার মূলধন বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯২ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন ১৩ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে ৪ হাজার ৬২৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে হয়েছিল ৩ হাজার ৯৭৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন ৬৪৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বেড়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২১০পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৭৫ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩৯ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৭২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১০৮ পয়েন্টে এবং ২ হাজার ৬৮ পয়েন্টে।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৮ টি কোম্পানি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৩২৮ টির, কমেছে ৪৯ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১ টির শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।