ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতায় ঝুঁকিতে আমানতকারীরা
আলমগীর হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: বাংলাদেশ অর্থনীতি নানামুখী চাপ ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগের যে প্রবাহ থাকার কথা ছিল সেখানে ধূসর মরুভূমির অবস্থা বিরাজ করছে। বন্ধ হয়ে আছে শত শত কলকারখানা। বেড়ে যাচ্ছে মূল্যস্ফীতি। ব্যাংকিং থাতে বিরাজ করছে চরম বিশৃঙ্খলা। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে চলছে নানা টালবাহানা। ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, এমডির অপারেশন নিয়ে চলছে আন্দোলন। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমকে মেনে নিতে পারছে না ব্যাংকের গ্রাহক, শেয়ার হোল্ডারা। দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ।
চেয়ারম্যানকে অপসারণের দাবিতে মাঠে নেমেছে আমানতকারীদের সংগঠন গ্রাহক ফোরাম। গ্রাহকদের বিক্ষোভের মুখে ব্যাংকে এখনো ঢুকতে পারেনি বিতর্কিত নতুন চেয়ারম্যান। ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডার ও গ্রাহকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলে সরকারের নির্দেশে পুলিশ জলকামান টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে অনেক গ্রাহক আহত হয়। এ ধরনের ঘটনা খুবই অনাকাঙ্খিত।
তবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। দেশের শিল্প খাত, পোশাক খাত, এসএমই খাতসহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পেও ইসলামী ব্যাংকের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। প্রবাসীদের রেমিট্যান্সও এ ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আহরিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গ্রাহকদের আমানত, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকটি দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংকে পরিণত হয়। শরিয়াহ ভিত্তিক কার্যক্রমের কারণে এটি গ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে ইসলামী ব্যাংক পিএলসির আবারও মালিকানা কাঠামো, শেয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবস্থাপনা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও আলোচনার মুখে পড়েছে।
অতীতে ব্যাংকটির শেয়ার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে ফলে একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রভাব বৃদ্ধি পায়। একইসঙ্গে ঋণ বিতরণ ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে। সরকার পরিবর্তন পরে সাধারণ গ্রাহক ফোরাম ও সরকার এই দুই পক্ষের তীব্র দ্বন্দ্বের কারণে আবারও ঝুঁকিতে আমানতকারীরা।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংকটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা ও পর্ষদ কাঠামোয় নতুন করে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে এসব পরিবর্তনকে ঘিরে সরকারপন্থি ও বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান থেকে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এক পক্ষ বলছে, পূর্ববর্তী সময়ে ব্যাংকের ওপর একক প্রভাব তৈরি হয়েছিল যার ফলে সুশাসন দুর্বল হয়েছে। অপর পক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাংকে সেই পুরোনো লুটেরাদের নিয়ে রাজনৈতিকভাবে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে যা ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
খাত-বিশ্লেষকরা বলেন, বড় কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো ও পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক তৈরি হলে তা সরাসরি আস্থা ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলে। ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আস্থা ও স্বচ্ছতা। অতীত বা বর্তমান— যে কোনো রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দীর্ঘায়িত হলে তা আমানতকারীদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে নজরদারি ও আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সব মিলিয়ে ইসলামী ব্যাংক এখন শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয় বরং মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা প্রতি ব্যাখ্যার এক জটিল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে।
মনিরুল হাসান নামে ইসলামী ব্যাংকের এক আমানতকারী বলেন, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে যা হচ্ছে তাতে আমানতকারী হিসেবে ভয় পাচ্ছি। আগে ঋণের নামে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তো ব্যাংকগুলোর ওপর আছে। সেটাকে নিয়েই ভয় হচ্ছে। যদি একই অবস্থা হয় তাহলে ব্যাংকটিতে আমানত রাখা নিয়ে বিকল্প চিন্তা করতে হবে। তিনি বলেন, মূলত আমরা আগের মতো ভরসা পাচ্ছি না। ব্যাংক খাতে সংস্কার না হলে বা আগের মতো চলতে থাকলে শুধু আমি না কোনো গ্রাহকই থাকবে না।
জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংককে জঙ্গিবাদে অর্থায়নের নামে লুটেরাদের হাতে তুলে দেয় তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার। ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাংকটির ৮৪ শতাংশ শেয়ার দখলে নেয় এস আলম গ্রুপ। গ্রুপটি ব্যাংকটি থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঋণ নিয়ে সব খেলাপিতে পরিণত করে। সরকার পরিবর্তন হলেও একই পথে হাঁটছে সরকার। বিরোধী রাজনীতির টানাপড়েনে ব্যাংকটি এখন আবারও লুটেরাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে সাধারণ আমানতকারীদের ওপর। ব্যাংক খাতের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা যত বাড়ে ততই গুজব, উদ্বেগ ও আস্থার সংকট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রেও সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি আমানতকারীদের।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকের আস্থাই সবচেয়ে বড় মূলধন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ঋণ বিতরণ, একটি গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তার, পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে টানাপড়েন এবং সাম্প্রতিক প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব সেই আস্থাকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। ফলে সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত কয়েক মাসে ব্যাংকটি থেকে বড় অঙ্কের আমানত তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অনেক গ্রাহক সঞ্চয় অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করছেন। এতে তারল্য চাপে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠীগুলোকে বিপুল পরিমাণ ঋণ দেওয়ার কারণে ইসলামী ব্যাংকের সম্পদের গুণগতমান বড় ধরনের চাপে পড়ে। এসব ঋণের একটি বড় অংশ এখন পুনরুদ্ধার অনিশ্চয়তায় রয়েছে। খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ব্যাংকাররা বলছেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের বৃহৎ আমানতভিত্তিক ব্যাংক হওয়ায় এর সঙ্গে লাখো গ্রাহকের স্বার্থ জড়িত। ফলে ব্যাংকটিতে কোনো ধরনের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা পুরো ব্যাংক খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইসলামি ধারার ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন এবং চেয়ারম্যান পদে নতুন নিয়োগকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ্যে আসে। এক পক্ষ এই পরিবর্তনকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলেও অন্য পক্ষ এটিকে ব্যাংকের ওপর প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করছে। এই দ্বন্দ্ব শুধু বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা ব্যাংকের ভেতরেও প্রশাসনিক বিভাজন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি তৈরি করেছে বলে জানা যায়। ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগও উঠেছে।
ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম বৃহৎ আমানতভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। ফলে এর যে কোনো অস্থিরতা দ্রুতই জনমনে প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা, গুজব ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের আমানত রাখা গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা সতর্কতা লক্ষ করা যাচ্ছে বলে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়। যদিও ব্যাংকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থিতিশীলতার বার্তা দেওয়া হচ্ছে তবুও বাজারে মনস্তাত্ত্বিক চাপ পুরোপুরি কমেনি।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করছে, সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় কিছুটা দুর্বল হয়েছে। কিছু সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া সম্ভব হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে মতবিরোধ থাকায় সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। বিশেষ করে ঋণ অনুমোদন, বড় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় একধরনের সতর্কতা ও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে বলে জানা যায়। এতে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব পড়তে পারে বলে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা চলছে। তবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সব কার্যক্রম নিয়মতান্ত্রিকভাবেই চলছে এবং কোনো ধরনের সংকট নেই।
দেশের রেমিট্যান্স আহরণে দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা, বিস্তৃত এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে শক্তিশালী এক্সচেঞ্জ হাউজ সংযোগের কারণে ব্যাংকটি টানা ১৮ বছর ধরে রেমিট্যান্স সংগ্রহে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বলে ব্যাংকটির দাবি।
২০২৫ সালে ব্যাংকটির মাধ্যমে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। একই সময়ে প্রায় ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে পাঠানো হয় যা দেশের ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ। এছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিং চ্যানেলেও ইসলামী ব্যাংকের আধিপত্য স্পষ্ট। ২০২৪ সালে শুধু এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকটি ১৫ হাজার ৩৫২ কোটি টাকার রেমিট্যান্স বিতরণ করেছে যা ওই খাতের মোট রেমিট্যান্সের ৫৪ শতাংশের বেশি।
দেলোয়ার হোসেন রাজীব নামে এক সৌদি প্রবাসীর সঙ্গে কথা হয় সম্প্রতি। তিনি বলেন, আমি ইসলামী ব্যাংকেই রেমিট্যান্স পাঠাই। ব্যাংক খাত আবার লুটেরাদের হাতে থাকলে হয়তো অন্য মাধ্যম আমাদের চিন্তা করতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে যা হচ্ছে তার খবর অবশ্যই আমরা জানি এবং জানার চেষ্টা করছি।
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে যে কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যবেক্ষণ বাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সাধারণত ব্যাংকের তারল্য, মূলধন পর্যাপ্ততা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করে। ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রেও এই পর্যবেক্ষণ আরও ঘনিষ্ঠ করা হয়েছে বলে জানা যায়, যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হুসাইনকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে তাকে টেক্সট পাঠালে তিনি তারও জবাব দেননি। তবে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যাংকের ওয়েবসাইটেও বিভিন্ন আমানত পণ্য, মুনাফার হার ও ব্যাংকিংসেবার তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।
ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএফ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, ব্যাংক খাত মূলত আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এই আস্থায় সামান্য ধাক্কা লাগলেও তার বহুগুণ প্রভাব পড়তে পারে পুরো ব্যবস্থায়। বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতিতে বড় ব্যাংকগুলো শুধু আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয় বরং পুরো অর্থনীতির রক্তপ্রবাহের মতো কাজ করে।
সেখানে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দীর্ঘায়িত হলে সেটি আমানতকারীদের আচরণে পরিবর্তন আনে। তিনি বলেন, আমানতকারীরা যদি একবারও মনে করে তাদের অর্থ ঝুঁকিতে আছে তাহলে সেটি ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করতে পারে, এমনকি সংক্রমণ ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।



