বাজেটের আগে উত্থান পতনে পুঁজিবাজার, সূচকের পতনে কমেছে লেনদেন
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের কিছুটা পতন হলেও বাজার নিয়ে ভয়ের কিছু নেই বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। মুলত বড় উত্থান এরপর ঢালাও দরপতন, তারপর আবার উত্থান, ফের পতন। ফলে নতুন অর্থবছরের বাজেটের আগে দেশের পুঁজিবাজারে এমন প্রবণতাই দেখা যাচ্ছে। আগামীকাল ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই বাজেট উপস্থাপনের আগে পুঁজিবাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ৭ জুন পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থান হয়। একই সঙ্গে প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়। তবে পরের কার্যদিবসে ঢালাও দরপতন হয়। এরপর সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ফের সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফেরে পুঁজিবাজার। তবে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে বাজারে আবার দরপতন হয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের গতি।
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মেলে। তবে লেনদেনের প্রথম আড়াই ঘণ্টা সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধরা অব্যাহত থাকে। তবে লেনদেনের শেষ দিকে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চাপে দাম কমার তালিকা বড় হয়।
ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি সংখ্যক কোম্পানির শেয়ার। ফলে দুই বাজারেই প্রধান মূল্যসূচক কমেছে। একই সঙ্গে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। টানা দরবৃদ্ধির পর কিছুটা সংশোধন হওয়া বাজারের সুস্থ বিকাশেরই অংশ। কারণ বর্তমান বাজারে ইতিবাচক পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্ব আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কমিশনের কার্যকর ও আন্তরিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা আরও বাড়বে এবং সূচক ও লেনদেন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
এ কারণে ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগকে এখনও নিরাপদ মনে করছেন তারা। এছাড়া বাজেট ঘোষণার আগে বিনিয়োগকারীরা নতুন নীতি ও করছাড়ের প্রত্যাশায় থাকেন। এ সময় অনেকে সতর্ক অবস্থান নেন, যার প্রভাব সরাসরি সূচকের ওঠানামায় পড়ে। এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫১৬ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ১১৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক .০৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৮০ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯১ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৯ টির, দর কমেছে ১৭৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৪ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ২১০ কোটি ৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৭৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৩৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২৪৪ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩৭ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ১০৮ টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৯ টির এবং ৩০ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



