পুঁজিবাজারে টানা উত্থানের পর সূচকের কিছুটা কারেকশন, ভয়ের কিছু নেই
শহীদুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্বের অধীনে প্রথম কার্যদিবসে রেকর্ড লেনদেন হলেও দ্বিতীয় কার্যদিবসে সূচকের পতনে ঢালাও দরপতন হয়েছে। মুলত ঈদের আগে ও পর মিলে টানা ১০ কার্যদিবস ঊর্ধ্বগতির পর মূল্য সংশোধন হয়েছে পুঁজিবাজারে। তবে সূচকের কিছুটা কারেকশন হলেও বাজার নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।
কারণ টানা ১০ কার্যদিবস উত্থানের পর একটু কারেকশন স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ। ফলে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা উত্থানের কারণে বেশকিছু কোম্পানির শেয়ার দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এতে পুঁজিবাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। এই মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার কারণেই দরপতন হয়েছে। এটি স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম। এতে মূল্য সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্য সূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪৮২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১০৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৬৯ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৩ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০২ টির, দর কমেছে ২৪৭ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৪ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ৭২কোটি ৪৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৪৫৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৫২৯ কোটি ৫ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩১৪ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩৮ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৭৮ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩৪ টির এবং ২৬ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৪৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



