স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধি ও সন্দেহজনক লেনদেন পরিলক্ষিত হওয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।  আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিগত চার বছর ধরে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর পরেও সম্প্রতি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য ও লেনদেনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটেছে। এর পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা ব্যবসায়িক অগ্রগতির ঘোষণা নেই, যা সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।

এ কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক আচরণ বিস্তারিত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে সংস্থাটির সার্ভিলেন্স বিভাগ কোম্পানিটির লেনদেন নজরদারিতে রেখেছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং লেনদেনে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা গেছে। এ কারণে ডিএসইকে কোম্পানিগুলোর দাম ও লেনদেন বাড়ার কারণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, তদন্তে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো সমন্বিত কারসাজিমূলক বা অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে কি না, অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং সংঘটিত হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার ও তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিরা মার্জিন রুলস ও কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

এ ছাড়া সন্দেহজনক লেনদেন সংঘটিত হওয়া বা প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের কোনো ভূমিকা বা দায় রয়েছে কি না এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনসহ অন্য কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় থাকবে। কমিশন ডিএসইকে চিঠি জারির তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজগুলোর অনুমোদিত প্রতিনিধি (এআর), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসইসির মতে, এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলের আচরণবিধি ৬ ও ৮ এবং বিধি ১১-এর সম্ভাব্য লঙ্ঘন।

তথ্য বলছে, প্রায় দুই মাস ধরে রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। গত ২৬ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ৩.৯০ টাকা। আর ১৫ জুন তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭.৯০ টাকায়। এ সময়ের ব্যবধানে শেয়ারটির দাম ৪ টাকা বা ১০২.৫৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে গত দুই কার্যদিবসে শেয়ারটি দাম কিছুটা সংশোধন হয়েছে।

সর্বশেষ ২০২০-২১ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক তথ্য প্রকাশ করেছে রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস। এর পর থেকে কোম্পানিটি কোনো আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না। ফলে কোম্পানিটির প্রকৃত আর্থিক ও ব্যবসায়িক তথ্য জানতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। আলোচ্য হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি কোম্পানিটি।

২০২০-২১ হিসাব বছরে রিজেন্ট টেক্সটাইলের কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি, আগের হিসাব বছরে যা ছিল প্রায় ৪ কোটি টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৬২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩১ পয়সা।

২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রিজেন্ট টেক্সটাইলের অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১২৮ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১৪০ কোটি ৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৬ লাখ ১২ হাজার ১৩৭। এর ৫৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ৬১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪০ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।