শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: দেশের পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের ধারাবাহিক নানা উদ্যোগের পরও বাজারে প্রত্যাশিত গতি দেখা যাচ্ছে না। মুলত মূল্যসূচকের অস্থিরতা ও কমে আসা লেনদেন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির কারণে বাজারে ইতিবাচক ধারা তৈরি হচ্ছে না বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। ফলে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের দরপতনে লেনদেন শেষ হয়েছে।

মুলত ডিএসইর হস্তক্ষেপে ফের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে পুঁজিবাজারে। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ৬২টি কোম্পানি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। এর মধ্যে ৩২টি কোম্পানির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এবং ৩০টি কোম্পানি আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’-এর মুখে রয়েছে। এরও আগে ডিএসই ৪২টি কোম্পানিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু তালিকায় কিছু নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়া ও কার্যক্রম চালু থাকা কোম্পানির নামও থাকায় বাজারে বিতর্ক তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে যখন একের পর এক ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির তালিকা প্রকাশিত হয়, তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে। ফলে নতুন বিনিয়োগের পরিবর্তে অনেকেই বাজার থেকে দূরে সরে যান।

তবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে স্থিতিশীলতার পথে হাঁটছে পুঁজিবাজার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুঁজিবাজারে তেজিভাব লক্ষ করা গেছে। এছাড়া বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর তাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিল পুঁজিবাজারে সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

তবে গত তিন মাসে সরকারের সদিচ্ছা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উদ্যোগে পুঁজিবাজার থেকে হারানো আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে বাজারে যে অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছিল, সেটা কিছুটা স্বস্তিকর অবস্থায় আসছে। তবে দুই কোম্পানি লেনদেন স্থগিত ও ৪২ কোম্পানি ইস্যূতে ডিএসইর হস্তক্ষেপে বাজার অস্থির হয়ে উঠছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী আশানুরূপ মুনাফা না পাওয়ায় নতুন করে বিনিয়োগে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন। অনেক ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারও প্রকৃত মূল্যায়নের তুলনায় কম দামে লেনদেন হচ্ছে। ফলে বাজারে নতুন অর্থের প্রবাহ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং লেনদেনের পরিমাণও কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছে না।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কমেছে টাকার পরিমানে লেনদেন ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। অবশ্য ঢালাও দরপতনের মধ্যেও বড় মূলধনের বেশকিছু কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। এতে বেড়েছে বাছাই করা সূচক। তবে প্রকৃত অর্থে ডিএসইর সূচকের বড় কারেকশন হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৬৩৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ১৪৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৪৫ পয়েন্টে।

দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৬ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭১ টির, দর কমেছে ২৯৮ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৯৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকার ।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ২৪৯ পয়েন্টে। সিএসইতে ২২৬ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানি মধ্যে ৬৯ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৩৬ টির এবং ২১ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।