প্রফিট টেকিংয়ের চাপে পুঁজিবাজারে সূচকের কারেকশন, লেনদেনে ভাটা
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূচকের কিছুটা পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে সূচকের পতন হলেও বাজার নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। কারণ টানা পাঁচ কার্যদিবস সূচকের উত্থানের পর মুনাফা তোলার চাপে সূচকের কিছুটা কারকেশন হয়েছে। এদিন কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমানে লেনদেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মেলে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে দাম কমার তালিকা বড় হয়। আর লেনদেনের শেষদিকে এক প্রকার ঢালাও দরপতন হয়। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
খাত ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ব্যাংক, ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল, সহ ভালো মৌল ভিত্তি কিছু কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ওষুধ ও রসায়ন এবং কিছু মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারগুলোয় ক্রয়চাপ ছিলো একচেটিয়া। অন্যদিকে বীমা ও বস্ত্র খাতের শেয়ারের ঢালাও পতনে সূচকের দরপতন হয়েছে।
একাধিক বিনিয়োগকারীর সাথে আলাপকালে বলেন, পুঁজিবাজার তার নিজস্ব গতিতে চলবে। বাজার একটানা উত্থান হলে একটু প্রফিট টেকিং এর চাপ থাকবে। এ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তাছাড়া একটানা উত্থান যেমন স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ নয়, তেমনি একটানা দরপতন কোন স্থিতিশীল বাজারের লক্ষণ নয়।
জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ২০৬ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ২২৭ পয়েন্টে।
দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯৫ কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৩ টির, দর কমেছে ২৪০ টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫২ টির। ডিএসইতে ১ হাজার ১১৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৯৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কম। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৫১৫ কোটি ৯১ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮১৪ পয়েন্টে। সিএসইতে ২২৪ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে ৮৬ টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১৬ টির এবং ২২ টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।



